বাংলাদেশের ক্রিকেট যখন মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরে নানা আলোচনায় ঘেরা, ঠিক তখনই নতুন এক উদ্বেগ সামনে এনেছেন ক্রিকেটারদের সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিতভাবে নেতিবাচক প্রচারণার অভিযোগ তুলে বিষয়টিকে শুধু সমালোচনার সীমায় না রেখে, বরং ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখছেন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।
মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন। মিঠুন বলেন, ‘এটা আসলে একটা পরিকল্পিত বিষয়, একটা বাহিনী, বট বাহিনী বলেও যেটার কথা কিছুদিন আগে শুনেছি। তামিম ইকবাল ভাই নিজেও এ বিষয়ে বলেছিলেন। তাদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এসব কাজ করানো হচ্ছে। তবে আমার মনে হয় না, এটা সফল হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের আবেগের জায়গা হলো ক্রিকেট। তামিম ভাই প্রথম দিন সংবাদ সম্মেলনে এসেই বলেছিলেন, ক্রিকেটের যে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে সেটি ফিরিয়ে আনাই তার প্রথম লক্ষ্য।’
ক্রিকেটারদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তিনি। মিঠুন বলেন, ‘এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ক্রিকেটারদের যে ভাবমূর্তি ছিল, এখন সেটা আগের জায়গায় নেই। আমরা বেশিরভাগই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করি। সেখানে অনেকেই পুরো বিষয়টা না বুঝেই মন্তব্য করে বসে। কেউ একটা নেতিবাচক মন্তব্য করলেই অনেকে সেটা দেখে না বুঝেই আরেকটা নেতিবাচক মন্তব্য করে। কিন্তু সেই মন্তব্য কতটা যৌক্তিক, সেটি অনেকেই ভাবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের একটা চর্চা এখন দেখা যাচ্ছে। অনেকের কাছেই বিষয়টি পরিষ্কার যে এগুলো পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয় না এই চেষ্টা সফল হবে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ যতই কষ্ট পাক, দিন শেষে তারা আবার মাঠে আসে, খেলা দেখে, খেলোয়াড়দের সম্মান করে এবং তাদের সঙ্গে মিশতে চায়।’
দেশপ্রেমের জায়গা থেকে ক্রিকেটকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারা এসব করছে- সত্যি বলতে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে আমি বলব, আমরা বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেট খেলি। যদি সত্যিই দেশপ্রেম থাকে, তাহলে ক্রিকেটকে সমর্থন করুন। ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না। সম্ভব হলে সহযোগিতা করুন, আর তা না পারলে যারা ভালো কিছু করতে চায় তাদের কাজ করতে দিন। আমার মনে হয় যারা সত্যিকারের ক্রিকেট ভালোবাসে, তারা এভাবে সমালোচনা করবে না। কারণ যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আসলে ক্রিকেটের উন্নতির জন্যই বলা হচ্ছে। যখন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যায়, তখন সেটা নিয়ে কথা বলা দোষের কিছু নয়।’
এ সময় ঘরোয়া ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়েও কথা বলেন কোয়াব সভাপতি। দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে মিঠুন বলেন, ‘এটা আমাদের অনেক বছরের চাওয়া ছিল। আগের স্যালারি বা ম্যাচ ফি খুবই কম ছিল, বর্তমান সময়ের তুলনায় সেটা একেবারেই অপ্রতুল। আমরা অনেকবার এ বিষয়ে কথা বলেছি, কিন্তু আগের মতো কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি।’
বর্তমান বোর্ডের উদ্যোগে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলেও জানান তিনি। মিঠুন বলেন, ‘বর্তমান বোর্ডের উদ্যোগে খেলোয়াড়দের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে, উনি আসার পর যেভাবে কাজটা হয়েছে, খেলোয়াড়দের মনের যে চাওয়া ছিল সেটা পূরণ হয়েছে। প্রত্যেক ক্রিকেটারই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে এবং তারা খুবই খুশি।’










Discussion about this post