নতুন নেতৃত্বে রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য সামনে রেখে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি এবার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তৃতীয় বোর্ড সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোতে স্পষ্ট হয়েছে-সংগঠন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি এখন সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সভায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচন কমিশন গঠন। তিন সদস্যের এই কমিশনে একজন প্রতিনিধি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অথবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে, আর বাকি দুজনকে মনোনীত করবে বিসিবি। যদিও কারা এই দায়িত্বে থাকবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দ্রুতই তা নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে খুব শিগগিরই কাউন্সিলর মনোনয়নের আহ্বান জানানো হবে। বিসিবির সংবিধানের ১২.৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব ক্যাটাগরি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন নেওয়ার জন্য নোটিশ জারি করা হবে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেবে।
এই বোর্ড গঠনের পেছনে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত, যেখানে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের একটি অ্যাড-হক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির ওপরই ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়, আর বর্তমান পদক্ষেপগুলো সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে, শুধু নির্বাচন নয়-সংগঠন পুনর্গঠনের দিকেও নজর দিয়েছে বোর্ড। চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালের আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থাগুলোর আগে গঠিত অ্যাড-হক কমিটিগুলো বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন কাঠামো তৈরির পথ খুলে দেওয়া হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে এই সভা থেকে। দুই বছরের জন্য কোকা-কোলা বাংলাদেশকে বিসিবির অফিসিয়াল ড্রিংকিং ওয়াটার ও বেভারেজ পার্টনার হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা বোর্ডের আর্থিক ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।










Discussion about this post