সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের জরাজীর্ণ অবস্থা ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ বুধবার দুপুরে স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকার যখন জোর করে ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা উন্নয়নের নামে শুধু মেগা দুর্নীতি করেছে। যার কারণে আজ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের এই জরাজীর্ণ অবস্থা দেখতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছর ধরে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় থেকে এসব অনিয়ম করা হয়েছে।
স্টেডিয়ামের বর্তমান নাজুক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামসহ দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে ‘নতুন ক্রীড়া কর্মসূচি’ উদ্বোধন করা হবে। এই কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেটসহ মোট সাতটি ইভেন্ট নিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে, যেখানে দেশের বিভিন্ন উপজেলার দল এবং ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা অংশগ্রহণ করবে।
তিনি জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং তাদের যথাযথভাবে গড়ে তোলা। প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিতদের জন্য বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণী থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
খেলোয়াড়দের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’-এই লক্ষ্য সামনে রেখে ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ এই সুবিধার আওতায় এসেছেন এবং খুব শিগগিরই আরও প্রায় ৫০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। তার মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে এবং একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী খুদে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পরে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামও ঘুরে দেখেন। এসময় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী, বিসিবি পরিচালক রাহাত শামস, মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার রাজিন সালেহসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।










Discussion about this post