মাঠে বহুবার দলকে বাঁচিয়েছেন গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে। এবার দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক আমিনুল হক। নবগঠিত সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংসদ সদস্য না হয়েও সংবিধানের বিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন তিনি-যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী ছিলেন আমিনুল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে তার দল। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দলীয় অবদানের মূল্যায়নেই আমিনুলের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশে ক্রীড়াজগত থেকে অনেকেই সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী হয়েছেন, তবে টেকনোক্র্যাট হিসেবে কিংবা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদের মন্ত্রী হওয়ার নজির ছিল না। সেই অর্থে আমিনুলের অন্তর্ভুক্তি ব্যতিক্রমী এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ফরাশগঞ্জ, আবাহনী, মোহামেডান ও মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে প্রায় দুই দশক খেলেছেন সুনামের সঙ্গে। গোলরক্ষক হয়েও দীর্ঘদিন ছিলেন দেশের ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের একজন। জাতীয় দলের এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২০১০ এসএ গেমসে দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচে একাধিকবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আলোচনায় আসেন, বিশেষ করে পেনাল্টি প্রতিহত করার দক্ষতায়।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে রাজনীতিতে সক্রিয় হন আমিনুল। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয়তা অব্যাহত ছিল। ক্রীড়াঙ্গনের অনেকের মতে, মাঠের অভিজ্ঞতা ও সংগঠনিক সম্পৃক্ততা তাঁকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।










Discussion about this post