বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আমিনুল হক। তার এ নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এক ব্যক্তিত্বের এমন দায়িত্বপ্রাপ্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বোর্ডটি।
বিসিবির মতে, ক্রীড়াঙ্গনে আমিনুল হকের নেতৃত্ব দেশের অসংখ্য সমর্থক ও তরুণ ক্রীড়াবিদকে অনুপ্রাণিত করবে। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেতৃত্ব দেওয়া এই ক্রীড়াবিদ এখন জাতীয় ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। বিষয়টিকে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিসিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘আমিনুল হকের মতো একজন স্বনামধন্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জাতীয় ফুটবল দলকে গর্বের সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি খেলোয়াড়দের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা রাখেন। আমি বিশ্বাস করি, একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা বিভিন্ন খেলাধুলার উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নতুন প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে বিসিবি। যাতে দেশের সব স্তরে খেলাধুলার উন্নয়ন ও ক্রীড়াবিদদের জন্য ধারাবাহিক অগ্রগতি ও সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।’
নবগঠিত সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন আমিনুল হক, যিনি সংসদ সদস্য না হয়েও সংবিধান অনুযায়ী টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের অবদান ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তার নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী কর্নেল (অব.) মো. আবদুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। পরে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিভিন্ন নামের মধ্যে শেষ পর্যন্ত সাবেক এই তারকা গোলরক্ষকই আস্থা অর্জন করেন।
বাংলাদেশে টেকনোক্র্যাট কোটায় সাবেক কোনো ক্রীড়াবিদের মন্ত্রী হওয়ার নজির আগে ছিল না। স্বাধীনতার পর সাবেক ফুটবলার মেজর হাফিজ মন্ত্রীত্ব পেয়েছিলেন এবং আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু নির্বাচনে পরাজয়ের পর বা টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আমিনুলই নতুন ইতিহাস গড়লেন।
নব্বইয়ের দশকে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর প্রায় দুই দশক দেশের শীর্ষ ক্লাব-ফরাশগঞ্জ, আবাহনী, মোহামেডান ও মুক্তিযোদ্ধায় খেলেছেন তিনি। গোলরক্ষক হয়েও দীর্ঘদিন ছিলেন সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের একজন। জাতীয় দলের হয়ে ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ২০১০ এসএ গেমসে অধিনায়কত্ব করেন। পেনাল্টি রুখে দেওয়ার দক্ষতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলাদা সুনাম অর্জন করেন।










Discussion about this post