দুবাইয়ের ঝলমলে আকাশের নিচে প্রথম দিকে মনে হচ্ছিল, ভারত বুঝি এক বিশাল স্কোর গড়ে বসবে। অভিষেক শর্মা এবং শুবমান গিলের ব্যাটে শুরুটা ছিল রীতিমতো আগ্রাসী। কিন্তু শেষটা? তা যেন একেবারেই বিপরীত চিত্র। মুস্তাফিজুর রহমানদের বল হাতে দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ১৬৮ রানেই আটকে যায় ভারত। বাংলাদেশি বোলাররা আবারও প্রমাণ করলেন, শুরুটা যতই ভয়ংকর হোক, শেষটা তার চেয়েও বেশি নিয়ন্ত্রিত করা যায়- যদি থাকে পরিকল্পনা আর আত্মবিশ্বাস।
টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ। শুরুতে দুই ওপেনার কিছুটা দেখে-শুনে খেললেও, ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই গতি পায় রানের চাকা। অভিষেক শর্মা নাসুম আহমেদের এক ওভারেই নেন ২১ রান। তার ব্যাট যেন হয়ে ওঠে ঝড়ের ঘূর্ণি। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দল তুলে ফেলে ৭২ রান – কোনো উইকেট না হারিয়ে। সেই মুহূর্তে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে নিশ্চয়ই ফাইনালের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল।
তবে ঠিক তখনই শুরু হয় বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন। পাওয়ারপ্লে শেষ হতেই থামিয়ে দেওয়া হয় গিলকে – বিদায় নেন ১৯ বলে ২৯ রান করে। তার পরপরই দুই বলের ব্যবধানে বিদায় নেন শিভাম দুবে। অভিষেক অবশ্য একাই চালিয়ে যাচ্ছিলেন আগ্রাসন। তিনি ৩৭ বলে ৭৫ রান করে রান আউট হলে, ভারতের ইনিংসে নামে ধস। একই ওভারে ফিরে যান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব – ১১ বলে করেন মাত্র ৫ রান।
বাংলাদেশ তখন পুরোদমে নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে ইনিংসের লাগাম। ভারতের রানের গতি কমতে থাকে নাটকীয়ভাবে। পরের উইকেট আসে তিলক ভার্মার – তিনিও মাত্র ৫ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। একমাত্র কিছুটা সময় ব্যাট হাতে দলকে টানার চেষ্টা করেন হার্দিক পান্ডিয়া, যিনি শেষ বলে ৩৮ রানে আউট হন। কিন্তু সঙ্গ না পাওয়ায় বড় কিছু করতে পারেননি। শেষ ৫ ওভারে ভারত তোলে মাত্র ৩৬ রান – যেখানে শেষ ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দেন মাত্র ৪ রান।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এদিন সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রিশাদ হোসেন – দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। পাশাপাশি মুস্তাফিজ, সাইফউদ্দিন এবং তানজিম হাসান সাকিব তুলে নেন ১টি করে উইকেট। তবে পুরো ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্তটি আসে মুস্তাফিজের হাত ধরেই।
এই বাঁহাতি পেসার এদিন গড়েছেন এক ঐতিহাসিক কীর্তি – আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি, যা বাংলাদেশের কোনো বোলারের আগে কেউ করতে পারেননি। সূর্যকুমার যাদবের উইকেটটি তাকে পৌঁছে দেয় এই অনন্য অর্জনে। এ অর্জনে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সাকিব আল হাসানকেও, যিনি বর্তমানে ১৪৯ উইকেটে থেমে আছেন। বিশ্বের মাত্র চারজন বোলার এই তালিকায় ছিলেন – রশিদ খান, টিম সাউদি, ইশ সৌধি – এবার তাদের কাতারে যোগ দিলেন মুস্তাফিজ।
৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ১ উইকেট- সংখ্যায় খুব বেশি চোখ ধাঁধানো না হলেও, প্রভাব ছিল বিশাল। শুরুতে ১৭ রান দিলেও ফিরে এসে দারুণভাবে বল করে ভারতের রানের গতি চেপে ধরেন ‘কাটার মাস্টার’।










Discussion about this post