পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের জন্য ছিল চরম পরীক্ষা ও প্রতিরোধের গল্প! শুরু থেকে পাকিস্তানি পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল বাংলাদেশ, তখন একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন দাস। তার দুর্দান্ত শতরানের ওপর ভর করেই প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। দিন শেষে পাকিস্তান কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান তুলেছে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের নিখুঁত বোলিংয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। শূন্য রানেই স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। নতুন বলে পাকিস্তানি পেসারদের গতি ও সুইং সামলাতে বেশ কষ্ট করতে দেখা যায় বাংলাদেশের ব্যাটারদের।
প্রথম ধাক্কার পর মুমিনুল হক ও অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তানজিদ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শটে আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৩৪ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন তিনি। তার আউটের পর আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
মুমিনুল হকও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। খুররাম শাহজাদের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের দিকে তাকিয়ে ছিল দল। কিন্তু দুজনের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শান্ত ২৯ রান করে স্লিপে ক্যাচ দেন, আর মুশফিক ২৩ রান করে লেগ বিফোরের শিকার হন।
মিডল অর্ডারে মেহেদি হাসান মিরাজও ব্যর্থ হলে ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তখন মনে হচ্ছিল দুইশ রানও হয়তো স্পর্শ করতে পারবে না দল।
সেই কঠিন অবস্থায় ইনিংসের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন লিটন দাস। শুরু থেকেই তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও ধৈর্যশীল। উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রেখে ধীরে ধীরে রান বাড়াতে থাকেন। পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে চমৎকার টাইমিং ও শট নির্বাচনে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
লিটনকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেন তাইজুল ইসলাম। যদিও তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৬ রান, তবে ৪০ বল খেলে মূল্যবান সময় দেন তিনি। এতে লিটন ইনিংস গড়ার সুযোগ পান। এরপর তাসকিন আহমেদও কিছুক্ষণ সঙ্গ দেন।
চাপের মধ্যেও নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাটিং চালিয়ে যান লিটন। কভার ড্রাইভ, পুল ও কাট শটে নিয়মিত বাউন্ডারি তুলে নেন তিনি। ১৩৫ বলে পূর্ণ করেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। শতক পূরণের পরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১৫৯ বলে ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ১২৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে ফেরেন তিনি।
বাংলাদেশের শেষ দুটি উইকেট দ্রুত তুলে নেন হাসান আলি। প্রথমে লিটনকে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ বানান তিনি। এরপর নাহিদ রানাকে আউট করে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন।
পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন খুররাম শাহজাদ। তিনি ৪টি উইকেট নেন। মোহাম্মদ আব্বাস শিকার করেন ৩টি উইকেট। হাসান আলি নেন ২টি উইকেট। পুরো দিনজুড়ে পাকিস্তানি পেসারদের শৃঙ্খলিত বোলিং বাংলাদেশের ব্যাটারদের চাপে রেখেছিল।
দিনের শেষ ভাগে ব্যাট করতে নেমে সাবধানী সূচনা করেছে পাকিস্তান। কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান সংগ্রহ করেছে সফরকারীরা। এখনও বাংলাদেশের চেয়ে ২৫৭ রানে পিছিয়ে তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৭ ওভারে ২৭৮/১০ (লিটন ১২৬, নাজমুল ২৯, তানজিদ ২৬, মুশফিক ২৩, মুমিনুল ২২; খুররম ৪/৮১, আব্বাস ৩/৪৫, হাসান ২/৪৯)।
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৬ ওভারে ২১/০ (আওয়াইস ১৩*, ফজল ৮*)।










Discussion about this post