মিরপুরের কালো উইকেটে যেন রঙ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থতার ছায়া পেছনে ফেলে দুজনের ব্যাট থেকে ঝরে পড়েছিল আত্মবিশ্বাসের আলো। ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে এই দুই ওপেনার শুরুটা করে দেন স্বপ্নের মতো।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ২৫ ওভারের মধ্যেই দলকে নিয়ে যান ১৭৬ রানে। ঠিক তখনই মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৩২০ কিংবা ৩৫০ লেখা অনিবার্য। কিন্তু বাস্তবের গল্পটি দাঁড়াল একেবারে উল্টো-শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে থামল ২৯৬ রানে।
এই ইনিংস যেন বাংলাদেশের পুরনো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি। ঝলমলে সূচনা, তারপর হঠাৎ ধস। সৌম্য-সাইফের ব্যাটিং দেখে দর্শকদের মনে হয়েছিল, অবশেষে পাওয়া যাচ্ছে স্থায়ী ওপেনিং জুটি। সাইফ হাসানের ব্যাটে ছিল আত্মবিশ্বাস; ৫৫ বলে ৮০ রান, যেখানে ছিল চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। অন্যদিকে সৌম্য সরকার ৮৬ বলে ৯১ রান করে ফিরেছেন, আটটি চার ও দুটি ছক্কায় সাজানো এক ইনিংস। এই জুটি ছিল ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী পার্টনারশিপ—১৭৬ রান। সর্বোচ্চ ২৯২ রানের জুটি তামিম ও লিটনের, ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
কিন্তু সৌম্য ও সাইফ ফেরার পর ইনিংসের চিত্র পাল্টে যায় পুরোপুরি। পরের ৫ রানের ব্যবধানে দুই ওপেনার বিদায় নেন, এরপর দ্রুত উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ হারায় গতি। শান্ত (৪৪) ও হৃদয় (২৮) কিছুটা লড়লেও শেষের দিকে ধস নেমে আসে। আকিল হোসেন একাই চার উইকেট তুলে নেন, যার তিনটিই আসে এক ওভারে।
শেষ দিকে মিরাজ ও নুরুল হাসান সোহান দলকে টেনে তোলেন। ২৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন তারা, ইনিংসের ৪৯তম ওভারে সোহানের টানা ছক্কা ও চার দলকে আবার উজ্জীবিত করে। তবে শেষ পর্যন্ত মিরাজের (১৭ বলে ১৭) ক্যাচে ইনিংস থেমে যায়। সোহান অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ১৬ রানে।
আজকের ইনিংসের আরেকটি বিশেষ দিক হলো ছক্কার রেকর্ড। বাংলাদেশ আজ ছক্কার সংখ্যা ১৪ ছুঁয়ে ফেলেছে-যা তাদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করেছে, ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করা রেকর্ডের সমান।
এই ২৯৬ রানের ইনিংস মিরপুরে বাংলাদেশের গত সাত বছরের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩২০ রান করার পর এই মাঠে এত বড় সংগ্রহ আর দেখা যায়নি। তবে এত রানের পরও ইনিংস শেষের ধসটাই মনে করিয়ে দিল, বাংলাদেশ এখনো শিখছে ইনিংসের গতি ধরে রাখার কৌশল।
এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য ২৯৭। সিরিজ সমতায় থাকায় ম্যাচটি কার্যত ফাইনাল, তাই এই ইনিংসের অসমাপ্ত গল্প পূর্ণ করতে হলে বাংলাদেশের বোলারদেরই দায়িত্ব নিতে হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯৬/৮ (সাইফ ৮০, সৌম্য ৯১, হৃদয় ২৮, শান্ত ৪৪, মাহিদুল ৬, রিশাদ ৩, নাসুম ১, সোহান ১৬*, মিরাজ ১৭; আকিল ১০-১-৪১-৪, চেইস ৮-১-৫৩-১, পিয়ের ১০-০-৪৬-০, গ্রেভস ৭-০-৬১-০, মোটি ৮-০-৫৩-১, আথানেজ ৭-০-৩৭-২)










Discussion about this post