বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। প্রার্থীদের মধ্যে অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগে জমে উঠেছে নির্বাচনী আবহ। এর মাঝেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তাঁর কাউন্সিলরশিপ নিয়েও আপত্তি ওঠে, তবে শুনানির পর আপাতত সব বাধা কাটিয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেলেছেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার।
বৃহস্পতিবার মিরপুরে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশ নিয়ে তামিম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি ভয়ডরহীনভাবেই এগোচ্ছেন, ‘চাপ আমার ওপর অনেক আছে। কালই আমার কাউন্সিলরশিপ বাতিল হয়ে যেতে পারে। তবে কেন হবে, সেটা আপনারা ভালোভাবেই বোঝেন। আমি চেষ্টা করছি ভয়ডরহীনভাবে এগোতে।’
তামিমের অভিযোগ, নির্বাচনে তাকে দুর্বল করার জন্যই নানা নোংরা কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হেরে গেলে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু নিজের ইগো বা স্বার্থের জন্য ক্রিকেটকে নোংরামির মধ্যে ফেলবেন না। ক্রিকেটের সঙ্গে ১৮ কোটি মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে।’
গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের সহসভাপতি হিসেবে শুনানিতে উপস্থিত হন তামিম। দুদকের পর্যবেক্ষণে বাদ পড়া ১৫ ক্লাবের একটি হলো এই গুলশান ক্লাব। তামিম মনে করিয়ে দেন, এই ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের নিয়মিত খেলার সুযোগ দেয়, পেমেন্ট করে, আর সেই আয় দিয়েই শত শত পরিবার চলে, ‘আপনারা যদি সিদ্ধান্ত নেন, সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে অন্তত ৩০০ ক্রিকেটার ও তাদের পরিবারের ওপর। এটা মাথায় রাখতেই হবে।’
তাঁর কাউন্সিলরশিপ নিয়ে কানাডাপ্রবাসী হালিম শাহর নামে আপত্তি জমা পড়লেও শুনানিতে তিনি হাজির হননি। উল্টো সংবাদমাধ্যমে হালিম জানান, কোনো অভিযোগই তিনি করেননি। ফলে নির্বাচন কমিশন আপত্তি খারিজ করে দেয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ হোসেইন বলেন, ‘আপত্তিকারী অনুপস্থিত থাকায় আমরা বিষয়টি আমলে নিইনি।’
তামিম যদিও এখানেই থেমে থাকেননি। সরকারের দায়িত্বের দিকেও ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন কেন হবে না? সরকারের দায়িত্বই হলো সেটা নিশ্চিত করা। সরকারের কোনো অংশ যদি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, সেটা কি ভালো উদাহরণ?’
সব বাধা সত্ত্বেও তিনি আশাবাদী, ৬ অক্টোবর বিসিবি নির্বাচনে হবে সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আর নিজের মতো করেই জানিয়ে দিলেন, মাঠে যেমন ভয়ডরহীন ছিলেন, নির্বাচনী লড়াইটাও তিনি খেলবেন একইভাবে।










Discussion about this post