আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডারকে ঘিরে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার সম্ভাব্য দেশে ফেরা। বাংলাদেশ–পাকিস্তান সিরিজে তার ফেরার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি বাস্তব হয়নি। তবে এবার তাকে ঘিরে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফাহিম জানিয়েছেন, সাকিবকে ঘিরে সাম্প্রতিক কার্যক্রম দ্রুত এগোচ্ছে এবং খুব বেশি দেরি নাও হতে পারে তাকে দেশে দেখতে। বাংলাদেশ–পাকিস্তান সিরিজ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সাকিবকে নিয়ে ইদানীং যেসব কার্যক্রম চলছে, বেশ দ্রুততার সঙ্গে হচ্ছে। আমি যতটুকু দেখছি বা আমি যতটুকু জানি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে হচ্ছে যে, হয়তো আমরা সামনে কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো দেখব সাকিব দেশে ফিরে এসেছে।’
প্রায় দেড় বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলছেন সাকিব। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাকে দেশের ক্রিকেটে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। কয়েক দিন আগে নিউইয়র্কে এক ইফতার অনুষ্ঠানে নিজেও দেশে ফেরার কথা বলেছেন সাকিব, যেখানে তাকে আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে উপস্থিতদের।
তবে জাতীয় দলে তার ফেরার সময় নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না বিসিবি কর্মকর্তারা। সামনে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ, কিন্তু সেই সিরিজে সাকিবকে দেখা যাবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। এ বিষয়ে ফাহিম বলেন, ‘না (নিউজিল্যান্ড সিরিজে সাকিবের ফেরা)। আসার ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে যেকোনো সময় হয়তো চলে আসতে পারে। আমি ইতিবাচকভাবেই দেখব। আমি চাইব, সে আসুক। ব্যাপারটা যেন এমন হয় সে দলে থাকলে দলে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করবে।’
সাকিব যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন, তাহলে তার ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও জানান ফাহিম। তিনি বলেন, ‘তার দলে খেলা বা সে কতদিন খেলবে বা কতটুকু খেলবে বা কোন সংস্করণে খেলবে, সেই বিষয়গুলো আসবে। সেখানে নির্বাচক প্যানেলের ব্যাপার থাকে। সেখানে টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার থাকে। তারপর সাকিবের নিজস্ব মতামত থাকবে। ক্রিকেট বোর্ডের মতামত থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদের। তবে সবার আগে হচ্ছে যে দল আগে। দলের স্বার্থটা সবার আগে প্রথমে আমরা দেখব। তারপর অন্য সবকিছু।’
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক বিশ ওভারের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন সাকিব। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের বিশ্বকাপেই বাংলাদেশের হয়ে শেষ বিশ ওভারের ম্যাচটি খেলেছেন। মিরপুরে একটি টেস্ট খেলে বিদায় নেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি, যদিও সেটি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।










Discussion about this post