আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ারে দারুণ পারফরম্যান্স করে সাত ম্যাচে সাত জয়ের কীর্তি গড়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। তবে আনন্দের এই মুহূর্তেও আক্ষেপ রয়ে গেছে অধিনায়কের কণ্ঠে-বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করেও খেলতে না পারা পুরুষ ক্রিকেট দলকে নিয়ে।
বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিগার সুলতানা জ্যোতি পুরুষ দলের বিশ্বকাপ মিস করা নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানান। বিশ্বকাপের মতো আসরে খেলতে না পারা যে কোনো ক্রিকেটারের জন্যই বড় কষ্টের বিষয়-এ কথা স্পষ্ট করে বলেন তিনি।
জ্যোতি বলেন, ‘অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলা একজন খেলোয়াড়ের জন্য অনেক বড় একটা বিষয়। যখন সেটা করতে না পারে.. আসলে সেটার অনেক কারণ আছে। এটা নিয়ে কথা না বললেই নয় এই সময়টাতে। কিন্তু অবশ্যই খারাপ লাগার বিষয়। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমার খারাপ লেগেছে। আমি বলবো পুরো দলের অনেকেরই অনেক খারাপ লেগেছে এটা অবশ্যই।’
বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ না খেলার পেছনে মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল ইস্যু, ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন এবং আইসিসির তা নাকচ করে দেওয়ার মতো একাধিক বাস্তবতা থাকলেও, একজন খেলোয়াড় হিসেবে অনুভূতির জায়গাটা যে আলাদা, সেটিও ইঙ্গিত করেন নারী দলের অধিনায়ক। তবে আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
জ্যোতির ভাষায়, ‘তবে এখন বাস্তবতা দেখতে হবে। যেটা হচ্ছে সেটা আসলে আমাদের মেনে নেয়া ছাড়া কোনো কিছু নেই। আমার কাছে মনে হয় এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করাটাই উচিত।’
নিজেদের সাফল্য, সুযোগ-সুবিধা ও স্বীকৃতির প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভাগ্য, পরিশ্রম ও বিশ্বাসের জায়গাটিকেই সামনে আনেন জ্যোতি। নারী দলের অর্জনের কৃতিত্ব পুরোপুরি খেলোয়াড়দের ঘাড়েই দেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে অধিনায়ক বলেন, ‘আমি মনে করি যে দেখেন যা আমাদের আসলে নসিবে আছে, আল্লাহ পাক যদি সম্মান দিতে চান সেটা আসলে কারো কাছ থেকে এভাবে চাওয়ার কিছু নাই। সম্মান আল্লাহ পাকই দেন এবং বলবো যে পুরো কৃতিত্ব মেয়েদের। কারণ মেয়েরা এই জায়গাটাতে আসার পেছনে সবার অনেক বেশি পরিশ্রম এবং ডেডিকেশন এবং ইচ্ছাশক্তিটা অনেক বেশি ছিল।’
নারী ক্রিকেটে আলোচনায় আসা–না আসার বাস্তবতাও অকপটে তুলে ধরেন জ্যোতি। ভালো করলে আলোচনায় থাকা আর না করলে আড়ালে চলে যাওয়ার বাস্তবতায় নিজেদের কাজটা কী, সেটিও পরিষ্কার করে বলেন তিনি।
জ্যোতির কথায়, ‘কারণ জানি যে আমরা আসলে ভালো করলে একটা লাইমলাইটে আসি। না করলে একদমই আসি না। তাই আমাদের কাজই হচ্ছে মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলা সো আমরা ওটাতেই ফোকাস করি।’










Discussion about this post