টানা ছয় ম্যাচে পরাজয়ের পর বিপিএলে জয়ের স্বাদ যেন ভুলতেই বসেছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। অবশেষে সপ্তম ম্যাচে এসে সেই হতাশার বৃত্ত ভাঙল দলটি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ৯ রানে হারিয়ে চলতি আসরে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেল নোয়াখালী।
টস জিতে রংপুর আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে ব্যাট করতে নামে নোয়াখালী। ওপেনিংয়ে শাহাদাত হোসেন দিপু ও সৌম্য সরকার দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। দিপু দ্রুত বিদায় নিলেও তিন নম্বরে নামা হাবিবুর রহমান সোহান পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের ছন্দ বদলে দেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তিনি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রান তোলার গতি বাড়ান। ছয় ওভার শেষে নোয়াখালীর স্কোর দাঁড়ায় ৬৬ রান।
পাওয়ারপ্লে শেষ হতেই সোহান ফিরলে ইনিংস কিছুটা ধীর হয়ে আসে। সৌম্য সরকার সেট হওয়ার চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। এরপর জাকের আলী অনিক দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেন। আক্রমণের চেয়ে উইকেট রক্ষায় মনোযোগী ছিলেন তিনি। শেষদিকে দ্রুত উইকেট পড়তে থাকায় নোয়াখালী চাপে পড়ে যায় এবং প্রত্যাশিত রান তুলতে ব্যর্থ হয়।
১৯.৫ ওভারে ১৪৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় নোয়াখালী। ইনিংসের শেষ তিন বলে টানা তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। রংপুরের হয়ে মুস্তাফিজুর রহমানও তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে বোলিংয়ে দাপট দেখান।
১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুরের শুরুটা ভালো হয়নি। লিটন দাস ও ডেভিড মালান দ্রুত ফিরে গেলে চাপ তৈরি হয়। তাওহিদ হৃদয় ও ইফতিখার আহমেদ জুটি গড়ে ইনিংস এগিয়ে নিলেও রান তোলার গতি ছিল ধীর। মাঝের ওভারগুলোতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নোয়াখালীর হাতেই থেকে যায়।
শেষ দিকে খুশদিল শাহের ব্যাটে রংপুর আবারও লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। তবে শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় রান তুলতে গিয়ে একের পর এক উইকেট হারায় দলটি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে খুশদিলের আউট রংপুরের জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৯ রানে থামে রংপুর রাইডার্সের ইনিংস।
এই জয়ে সাত ম্যাচ শেষে নোয়াখালীর সংগ্রহে যোগ হলো প্রথম দুই পয়েন্ট। অন্যদিকে হারের পরও রংপুর রাইডার্স ছয় ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।










Discussion about this post