সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবারের বিকেলটা গড়ায় শেষ বলের উত্তেজনায়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের এই ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে লো স্কোরিং লড়াইয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় মাত্র দুই উইকেট হাতে রেখে।
১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একাধিকবার ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা জেগেছিল, এমনকি শেষ বলে প্রয়োজনীয় দুই রান না এলে সুপার ওভারের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে হাসান নওয়াজ দায়িত্ব নেন এবং শেষ মুহূর্তে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটা চট্টগ্রামের জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়। ব্যাট হাতে রাজশাহী শুরুতে কিছুটা স্থিরতা পেলেও চতুর্থ ওভারেই মোহাম্মদ ওয়াসিমের উইকেট পড়তেই ইনিংসের গতি থমকে যায়। নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিমরা উইকেটে থিতু হতে পারেননি। পুরো ইনিংসজুড়েই ব্যাটারদের আসা–যাওয়ার মিছিল চলেছে। কেউই বিশের ঘর পার করতে না পারায় রাজশাহী মাঝারি সংগ্রহেই আটকে যায়। ওয়াসিম ও এসএম মেহরবের ১৯ রান ছিল দলের সর্বোচ্চ। মুশফিকুর রহিম, রায়ান বার্ল ও আকবর আলীরা ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। শেষদিকে তানজিম হাসান সাকিব অপরাজিত থাকলেও স্কোরবোর্ডে বড় পরিবর্তন আনতে পারেননি।
চট্টগ্রামের বোলাররা পরিকল্পনা মেনে বল করেছেন। আমের জামাল কম খরচে উইকেট তুলে নিয়ে মাঝের ওভারে রাজশাহীর রানের গতি আটকে দেন। শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলামও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ব্যাটারদের চাপে রাখেন। এর ফলেই ২০ ওভারে রাজশাহীর রান থামে ১২৮-এ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামও যে সহজে লক্ষ্য ছুঁতে পারবে না, তার ইঙ্গিত আসে শুরুতেই। নাঈম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম দ্রুত সাজঘরে ফিরলে স্কোরবোর্ডে জমে ওঠে চাপ। অ্যাডাম রসিংটন কিছুক্ষণ লড়াই করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ তখন রাজশাহীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার উপক্রম।
এই সংকটময় মুহূর্তে চট্টগ্রামের ইনিংসে স্থিরতা আনেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ও হাসান নওয়াজ। ধীরে খেলেও প্রয়োজনীয় রান তুলে তারা পঞ্চম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। মেহেদী দায়িত্বশীল ২৮ রান করে ফিরে গেলে চাপ আবার বাড়ে। তবে হাসান নওয়াজের সঙ্গে আসিফ আলীর জুটি ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। আসিফ ২৭ রান করে বিদায় নিলেও নওয়াজ উইকেটে থেকে যান, যা চট্টগ্রামের জন্য সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠে।
শেষ দিকে রাজশাহী বোলাররা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। শেষ ওভারে যখন চট্টগ্রামের দরকার ছিল ১০ রান, উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। এসএম মেহরবের ওভারে প্রথম তিন বলে রান এলেও পরের দুই বল ডট হওয়ায় গ্যালারিতে নীরবতা নেমে আসে। শেষ বলেই নির্ধারিত হয় ম্যাচের ভাগ্য। লং অফের দিকে ঠেলে দেওয়া শটে প্রয়োজনীয় দুই রান তুলে নিয়ে চট্টগ্রামের ডাগআউটে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দেন হাসান নওয়াজ।
৩৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকা নওয়াজের ইনিংসই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। রাজশাহীর হয়ে বিনুরা ফার্নান্দো ও এসএম মেহরব বল হাতে লড়াই জমিয়ে রাখলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। বিপর্যয় সামলে ধৈর্য আর পরিকল্পনার ক্রিকেট খেলেই এই ম্যাচে জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস, যা তাদের টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল।










Discussion about this post