অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে কঠিন অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ৩৫৫ রান তুলে ৯২ রানের লিড নেয়। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুই উইকেটে ১৯ রান সংগ্রহ করে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ফলে শেষ দিনের খেলা শুরুর আগে এখনও ৭৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে টাইগাররা।
৫৩ রানে দুই উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। দিনের শুরুতেই হাসান মাহমুদ জশ ফিলিপেকে ২৪ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন। এরপর ইবাদত হোসেনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জ্যাক ক্লেটন। ৫৮ বলে ৪৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। পঞ্চম উইকেটেও আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ। ৯১ বলে ৫৩ রান করা কুর্টিস প্যাটারসনকে বোল্ড করে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন এই পেসার।
তবে মধ্যাহ্ন বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে স্বাগতিকরা। জ্যাক ডোরান ও টিগ উইলির জুটিতে দ্রুত রান বাড়তে থাকে। উইলি ১৭৭ বলে ১৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে খালেদ আহমেদের শিকার হন। অন্যদিকে ডোরান ১০২ বলে ৭৬ রান করে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজের বলে। এরপর জারসিস ওয়াদিয়াকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ। শেষ সেশনে হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ একটি করে উইকেট তুলে নিলে ৩৫৫ রানে অলআউট হয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ এবং প্রথম ইনিংসে ৯২ রানের লিড পায়।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। তিনি ৪২ রানে চারটি উইকেট শিকার করেন। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ২৬৩ রান তুলেছিল। তবে দ্বিতীয় দিনে সেই সংগ্রহ ছাড়িয়ে যায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ।
৯২ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেও ভালো সূচনা পায়নি বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম ৬ রান করে ক্যাচ আউট হন। এরপর মুমিনুল হকও ৬ রান করে রান আউট হয়ে ফিরে যান। দিনের খেলা শেষে দুই উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৯ রান। ক্রিজে অপরাজিত আছেন তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশে পরিচিত মুখ বলতে ছিলেন কেবল স্যাম কনস্টাস ও জশ ফিলিপে। তুলনামূলক অপরিচিত এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। তিন দিনের এই প্রস্তুতি ম্যাচের শেষ দিনে ম্যাচ বাঁচাতে এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে বড় দায়িত্ব থাকবে টাইগার ব্যাটারদের কাঁধে।










Discussion about this post