মিরপুরের উইকেট দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, প্রথম দিনটা হয়তো ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষাই হতে যাচ্ছে। সবুজাভ উইকেটে সেই আভাস মিলেছিল শুরুতেই। দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই চাপকেই পরে শক্তিতে বদলে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। দুই ব্যাটারের দুর্দান্ত জুটিতে প্রথম দিনের শেষটা নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ টেস্টের প্রথম দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩০১ রান। এখনও হাতে আছে ছয় উইকেট। ফলে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ। ক্রিজে অপরাজিত আছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। মুশফিক ৪৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনে নামবেন, লিটনের সংগ্রহ ৮।
টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। নতুন বলে বাড়তি সুইং ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে শুরুতেই সফলও হন তাদের পেসাররা। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে আউট হন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর হাসান আলীর শিকার হন সাদমান ইসলাম। ৩২ রানেই দুই ওপেনার হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসে নেমে আসে শঙ্কা।
সেই অবস্থায় দায়িত্ব নেন শান্ত ও মুমিনুল। শুরুতে সময় নিয়ে খেলে ধীরে ধীরে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ বাড়ান তারা। একসময় পুরো নিয়ন্ত্রণই চলে আসে বাংলাদেশের হাতে। তৃতীয় উইকেটে ১৭০ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন রেকর্ড গড়েন এই দুই ব্যাটার। এর আগে এই উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি ছিল ১৩০ রান।
অধিনায়ক শান্ত এদিন ছিলেন আগ্রাসী মেজাজে। টেস্ট ক্রিকেটের ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেলে খেলেছেন দারুণ এক ইনিংস। কভার ড্রাইভে চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর তার উদযাপন যেন পুরো মিরপুরকে জাগিয়ে তোলে। ১২৯ বলে শতক পূর্ণ করা শান্ত শেষ পর্যন্ত ১৩০ বলে ১০১ রান করেন। ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছক্কা।
এই শতকের মাধ্যমে আরও একবার নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। শেষ পাঁচ টেস্টের চারটিতেই সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে এটি অধিনায়ক হিসেবে তার পঞ্চম শতক, যা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়কদের একজনের কাতারে নিয়ে গেছে। মাত্র ১৭ ম্যাচেই মুশফিকুর রহিমের চার সেঞ্চুরির রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন শান্ত।
তবে শতকের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সেঞ্চুরির পরের বলেই মুহাম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। আম্পায়ার প্রথমে নট আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। তাতে ভাঙে শান্ত-মুমিনুলের রেকর্ড জুটি।
অন্যদিকে মুমিনুল খেলেছেন নিজের চেনা ধৈর্যের ক্রিকেট। একপ্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস বড় করার পথে ছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে এগোতে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটার দিনের শেষভাগে পৌঁছে গিয়েছিলেন শতকের খুব কাছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি। নোমান আলীর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ২০০ বলে ৯১ রান করে ফিরতে হয় তাকে। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার।
দিন শেষে তাই বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে স্বস্তি যেমন আছে, তেমনি আছে কিছু আক্ষেপও। শান্তর শতক দলকে দিয়েছে শক্ত ভিত, কিন্তু মুমিনুলের অপূর্ণ সেঞ্চুরি আর মুশফিকের হাফসেঞ্চুরির অপেক্ষা দ্বিতীয় দিনের জন্য বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে রেখেছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩০১/৪ (নাজমুল ১০১, মুমিনুল ৯১; আফ্রিদি ১/৬৭, আব্বাস ১/৫১)
প্রথম দিন শেষে









Discussion about this post