মুহাম্মদ আব্বাসকে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাট ও হেলমেট হাতে শূন্যে লাফিয়ে উঠলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। গর্জে ওঠা সেই উদযাপন যেন শুধু একটি সেঞ্চুরির আনন্দ নয়, বরং নিজের ধারাবাহিকতার আরেকটি বড় ঘোষণা। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগে কখনও টেস্টে ফিফটির দেখা না পাওয়া বাংলাদেশের অধিনায়ক এবার শুধু সেই আক্ষেপই ঘোচাননি, ইনিংসটিকে রূপ দিয়েছেন দারুণ এক শতকে।
মিরপুর টেস্টে আজ প্রথম দিনে মাত্র ১২৯ বলে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শান্ত। সর্বশেষ আট ইনিংসে এটি তার চতুর্থ শতক, অর্থাৎ শেষ পাঁচ টেস্টের চারটিতেই তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন তিনি। পেস ও স্পিন-দুই ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষেই ছিল তার দারুণ নিয়ন্ত্রণ। শট নির্বাচনে ছিল পরিপক্বতা, আর আত্মবিশ্বাসে ছিল দৃঢ়তা। তবে শতকের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। পরের বলেই আব্বাসের এলবিডব্লিউ ফাঁদে পড়ে ১০১ রানে থামেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
শুরুর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের ইনিংস গড়ার বড় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শান্ত ও মুমিনুল হক। দল যখন ৩১ রানেই হারিয়েছে দুই উইকেট, তখন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মিলে গড়েন ১৭০ রানের অনবদ্য জুটি। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের তৃতীয় উইকেটে এটিই এখন সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগে ২০০৩ সালে পেশোয়ারে মোহাম্মদ আশরাফুল ও জাভেদ ওমরের ১৩০ রানের জুটি ছিল সেরা।
শান্ত ও মুমিনুলের এই জুটি আসে ২৫৩ বলে। শান্ত ১৩০ বলে ১০১ রানের ইনিংসে হাঁকান ১২টি চার ও ২টি ছক্কা। অন্যদিকে মুমিনুলও তুলে নেন আরেকটি ফিফটি। টানা চার ইনিংসে পঞ্চাশের বেশি রান করলেন তিনি। আগের তিন ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল ৮২, ৬৩ ও ৮৭ রান।
চা বিরতির ঠিক আগে আসে সেই নাটকীয় মুহূর্ত। আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউর আবেদন নাকচ করেন আম্পায়ার। তবে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদের রিভিউ সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। তাতেই ভাঙে ১৭০ রানের জুটি এবং শেষ হয় শান্তর অসাধারণ ইনিংস।
এই শতক শান্তর জন্য আরও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে এসেছে। বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে এটি তার পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি। মাত্র ১৭ ম্যাচেই এই কীর্তি গড়ে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন মুশফিকুর রহিমকে, যার অধিনায়কত্বে ৩৪ ম্যাচে ছিল চারটি শতক।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম অধিনায়কোচিত সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া শান্ত এরপর গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জোড়া শতক করেন। পরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও ছিল আরেকটি সেঞ্চুরি। এবার মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে শতক হাঁকিয়ে নিজের ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্ব-দুটোকেই আরও একবার নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক।









Discussion about this post