মিরপুর টেস্টে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ঘণ্টায় দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে সেই বিপর্যয়ের পর দৃঢ়তা দেখিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুমিনুল হক। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথম সেশনটা নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ টেস্টের প্রথম দিনে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬ ওভারে ২ উইকেটে ১০১ রান। ৫০ বলে এক ছক্কা ও চারটি চারে ৩৯ রানে অপরাজিত আছেন শান্ত। অন্যদিকে ৫৭ বলে চারটি চারে ৩১ রান করে ক্রিজে রয়েছেন মুমিনুল।
তৃতীয় উইকেটে দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান গড়েছেন ৯৫ বলে ৭০ রানের জুটি। যেখানে শুরুতে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন মুমিনুল, আর শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করেছেন শান্ত। রানের গতি বাড়ানোর দায়িত্ব যেন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অফ স্পিনার সালমান আলি আগার বলে ম্যাচের প্রথম ছক্কাটিও এসেছে তার ব্যাট থেকে।
ইনিংসের শুরুতে পাকিস্তানের পেসারদের আক্রমণ বেশ ভালোভাবেই সামলাতে হচ্ছিল বাংলাদেশকে। প্রথম ওভারেই চার মেরে আত্মবিশ্বাসী শুরু করেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তবে পঞ্চম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে স্লিপে ক্যাচ উঠলেও পাকিস্তানি ফিল্ডারদের ভুলে জীবন পান তিনি। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ডানহাতি এই ওপেনার। সপ্তম ওভারে আবারও আফ্রিদির বলেই উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৯ বলে ৮ রান করে।
আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম কিছুটা সতর্ক ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু একাদশ ওভারে হাসান আলির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ৩০ বলে ১৩ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
১০.১ ওভারে ৩১ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন শান্ত ও মুমিনুল। প্রথম ৫০ রান তুলতে বাংলাদেশ খেলেছে ১০২ বল। এরপর রান তোলার গতি বাড়িয়ে পরের ৫০ রান আসে মাত্র ৫২ বলে। দুই ব্যাটসম্যান দ্রুতই পাকিস্তানের বোলারদের চাপে ফেলে দেন।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলি একটি করে উইকেট নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন মোহাম্মদ আব্বাস। ৮ ওভারের দীর্ঘ স্পেলে মাত্র ১৩ রান দিয়েছেন তিনি। তার বাড়তি বাউন্স ও সুইং বেশ পরীক্ষা নিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের।
প্রথম সেশনে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ পাঁচজন বোলার ব্যবহার করেন। শান্ত-মুমিনুলের জুটি ভাঙতে নিয়মিত স্পিনার নোমান আলীর পাশাপাশি পার্ট-টাইম অফ স্পিনার সালমান আলি আগাকেও আক্রমণে আনেন তিনি। কিন্তু প্রথম সেশনে সফল হতে পারেনি পাকিস্তান।









Discussion about this post