অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের পর্দা উঠল মিরপুরে, আর শুরুতেই নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল ধূমকেতু একাদশ। টস হেরে আগে ব্যাট করা দুরন্ত একাদশকে ১৪৩ রানে আটকে দিয়ে পরে লিটন দাস ও সাইফ হাসানের কার্যকর ব্যাটিংয়ে হেসেখেলেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ধূমকেতু।
শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে দুরন্ত একাদশের শুরুটা খুব খারাপ ছিল না। জিসান আলম ও মাহফিজুল ইসলাম রবিন মিলে গড়েন ৩১ রানের ওপেনিং জুটি। জিসান ৬ বলে ১৪ রান করে ফিরলেও রবিন এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনে নামা আজিজুল হাকিম তামিম ২১ বলে ১৬ রান করে আউট হলে ছন্দ হারাতে শুরু করে দুরন্ত।
চারে নামা আরিফুল ইসলাম ব্যর্থ হন পুরোপুরি। ৪ বলে মাত্র ২ রান করে ফিরে যাওয়ার পর চাপ আরও বাড়ে। রবিন ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ৩৬ বলে ৩৯ রান করে ৭৫ রানে আউট হলে দুরন্তর ইনিংস কার্যত ভেঙে পড়ে। মাঝের ওভারগুলোতে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে দলটি। শেষ দিকে আকবর আলী ১০ বলে ১৮ রান এবং এস এম মেহেরব হোসেন ১০ বলে ১৫ রানের ক্যামিও খেললেও বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি। ইমপ্যাক্ট সাব জাওয়াদ আবরার ৮ বলে ১০ এবং আবদুল গাফফার সাকলাইন ১৫ বলে ১৫ রান যোগ করেন। ১৯.৫ ওভারে ১৪৩ রানেই অলআউট হয় দুরন্ত একাদশ।
ধূমকেতুর বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন রিশাদ হোসেন। তিনি ২১ রান খরচায় নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব ২টি করে উইকেট শিকার করেন। শেখ মেহেদী হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান একটি করে উইকেট নিয়ে দুরন্তকে চাপে রাখেন।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল ধূমকেতু একাদশ। সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের জুটিতে আসে ৩৪ রান। তানজিদ ৮ বলে ১৭ রান করে ফিরলেও এরপর সাইফের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক লিটন দাস। দুজনের আগ্রাসী কিন্তু পরিমিত ব্যাটিংয়ে দ্রুত কমতে থাকে রান ব্যবধান।
দুরন্তর বোলারদের ওপর একের পর এক আক্রমণে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন সাইফ ও লিটন। ফিফটির দোরগোড়ায় পৌঁছে শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৫০ রান করে সাইফ আউট হন দলের ১১২ রানে। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন পুরোপুরি ধূমকেতুর হাতে।
এরপর ইমপ্যাক্ট সাব পারভেজ হোসেন ইমন ৬ বলে ৬ রান করে ফিরে গেলেও অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন লিটন দাস। পাঁচে নেমে তাওহিদ হৃদয়ও বেশি কিছু করতে পারেননি। তবুও অধিনায়কের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েই এগোতে থাকে ধূমকেতু। শেষ দিকে কিছুটা ধীর হলেও জয়ের পথে কোনো বাধা আসেনি।
শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে অপরাজিত ৬৫ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন লিটন দাস। তার ব্যাট থেকেই আসে জয়ের শেষ রান। দুরন্ত একাদশের হয়ে বোলিংয়ে এস এম মেহেরব হোসেন ৩টি উইকেট নেন।










Discussion about this post