টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হতে যাচ্ছে শনিবার। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ২০টি দল। শুরু থেকেই সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের লড়াই। তবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে গ্রুপপর্বের ওই ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানকে অবস্থান পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড।
বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে জানায়, কলম্বোতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলার বিষয়টি নতুন করে ভাবতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এসএলসির মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হলে শ্রীলঙ্কা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। শুধু ক্রিকেট বোর্ডই নয়, দেশটির পর্যটন খাতও এতে নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের পর দেশটি এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে লড়াই করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি বাতিল হলে প্রত্যাশিত রাজস্ব ও বিদেশি পর্যটকের প্রবাহ কমে যেতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর হবে।
পাকিস্তানের বয়কট ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। যদিও এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে কোনো লিখিত বার্তা দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানালেও বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা শুরু থেকেই বিষয়টি নমনীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন নিশ্চিত করতে আইসিসি পর্দার আড়ালে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিশেষ প্রতিনিধিও নিয়োগ করেছে।
৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচে ভারত খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। একই দিনে কলম্বোতে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। পুরো টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়। লিগপর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিলেও, সেমিফাইনাল বা ফাইনালে দুই দলের মুখোমুখি হলে সে ক্ষেত্রে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।










Discussion about this post