নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। বড় লক্ষ্য তাড়া করে আত্মবিশ্বাসী এই জয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দলের ব্যাটিং গভীরতা ও সম্মিলিত পারফরম্যান্স। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল সফরকারীরা, তবে শেষ পর্যন্ত সেটি খুব বড় হয়ে দাঁড়ায়নি স্বাগতিকদের জন্য।
ম্যাচ শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তাওহীদ হৃদয়, যিনি ব্যাট হাতেও ছিলেন ম্যাচের নায়ক। অন্যদিকে অধিনায়ক লিটন দাস আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে না এলেও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তার কথায় ফুটে উঠেছে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি এবং ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যয়।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিটন লিখেছেন, ‘ম্যাচটা আমাদের দিকেই গেছে-এটাই সেই ধরনের ক্রিকেট, যেটা আমরা খেলতে চাই। বোলারদের নিয়ে গর্বিত, ব্যাটারদের নিয়েও গর্বিত-এটা ছিল পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই তৌহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন এবং সর্বশেষ হলেও কম গুরুত্বপূর্ণ নন, শামীম হোসেন পাটোয়ারীকে। ছেলেরা, আর দুইটা ম্যাচ জিততে হবে-চল কাজটা শেষ করি।’
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ১৮২ রানের শক্ত ভিত গড়ে। ড্যান ক্লিভার ও কাটানে ক্লার্কের অর্ধশতকে বড় সংগ্রহ পায় কিউইরা। তবে বাংলাদেশের বোলাররা পুরোপুরি ব্যর্থ হননি; বিশেষ করে রিশাদ হোসেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে দলকে লড়াইয়ে রাখেন।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুর ১০ ওভারে ৭৭ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। এরপরই পাল্টে যায় ম্যাচের গতি। পারভেজ হোসেন ইমনের দ্রুতগতির ইনিংস চাপ কমায়, আর তাওহীদ হৃদয় ধীরে-স্থিরভাবে ইনিংস গড়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখেন। শেষদিকে শামীম হোসেন পাটোয়ারীর বিধ্বংসী ব্যাটিং নিশ্চিত করে জয়। মাত্র ৮ ওভারে ১০৬ রান তুলে ম্যাচ শেষ করে ফেলে বাংলাদেশ, হাতে থাকে ২ ওভার।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে লিটন দাস বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই, দারুণ শুরু। ভালো ম্যাচ ছিল, যেভাবে আমরা ব্যাট করলাম। বিশেষ করে হৃদয় ম্যাচটা বের করে নিল। হৃদয় এবং ইমন দারুণ ছিল, শামীম ফিনিশ করল। পাওয়ারপ্লেতে বড় রান পেলে তাড়া করা সহজ হয়ে যেতে পারত। তবে মাঝের ওভারে ইমন, হৃদয় এবং শামীম যেভাবে ব্যাট করেছে তাতে আমাদের জয় সহজ হয়ে গেছে। ব্যাট করাটা দেখতে সোজা লাগলেও আসলে সহজ ছিল না।’
এই জয়ের ফলে সিরিজে এগিয়ে থেকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেয়েছে বাংলাদেশ। সামনে রয়েছে আরও দুটি ম্যাচ-চট্টগ্রাম (২৯ এপ্রিল) ও মিরপুরে (২ মে)। একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্নও পূরণ হতে পারে।









Discussion about this post