রানবোর্ডে ১৮০ পেরোনো সংগ্রহ থাকলে সাধারণত ম্যাচে এগিয়ে থাকার কথা। কিন্তু রাওয়ালপিন্ডিজের ক্ষেত্রে গল্পটা উল্টো। ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়েও বল হাতে ভেঙে পড়ে তারা, আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে দাপুটে জয় তুলে নেয় মুলতান সুলতান্স। গত রাতে ব্যাটে বলে ব্যর্থ রিশাদ হোসেন!
শুরুর ধাক্কা সামলে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেছিল পিন্ডিজ। মোহাম্মদ রিজওয়ান দ্রুত ফিরলেও কামরান গুলাম কিছুটা স্থিরতা এনে দেন। তবে ইনিংসের মাঝপথে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় বড় সংগ্রহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে শেষ দিকে স্যাম বিলিংসের আগ্রাসী ব্যাটিংই ম্যাচে ফেরায় দলকে। তার অর্ধশতকের ওপর ভর করে ১৮২ রানে পৌঁছায় রাওয়ালপিন্ডিজ, যা লড়াই করার মতো পুঁজি বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু সেই রানও যথেষ্ট হয়ে ওঠেনি। মুলতানের ব্যাটাররা শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে থাকে। দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা। সাহিবজাদা ফারহান ও জশ ফিলিপের জুটি পিন্ডিজের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে, যা আর সামাল দিতে পারেনি দলটি।
এই পর্যায়ে বড় প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের রিশাদ হোসেনকে ঘিরে। কিন্তু তিনি উল্টো হয়ে ওঠেন প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তু। এক ওভারে অতিরিক্ত রান দেওয়ার পর তার ওপর থেকে আস্থা হারায় দল। শেষ পর্যন্ত মাত্র তিন ওভারে ৪৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন এই লেগস্পিনার, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দুই সেট ব্যাটার ফিফটি তুলে নেওয়ার পর জয় ছিল সময়ের ব্যাপার। শেষ দিকে শান মাসুদ ও অ্যাশটন টার্নার অনায়াসে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেন, তাও আবার বেশ অনেক বল হাতে রেখেই।
এই ম্যাচে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রাওয়ালপিন্ডিজের বড় দুর্বলতা-বোলিং। টানা চার ম্যাচে হেরে তারা এখন চাপে, আর দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে টুর্নামেন্টে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।










Discussion about this post