মিরপুর টেস্টে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে আজ দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৯২ রান নিয়ে যে অবস্থানে ছিল স্বাগতিকরা, সেখান থেকে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে ভর করে লাঞ্চ পর্যন্ত স্কোর দাঁড়িয়েছে ৫ উইকেটে ৩৮৭। স্পিনবান্ধব উইকেটেও বাংলাদেশের দুই ব্যাটার দেখিয়েছেন ধৈর্য ও জয়ের নিশ্চিন্ত ভরসা।
দিনের শুরুতেই শততম টেস্টে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েন মুশফিক। মাত্র এক রান দূরে থেকে রাত যাপন করার পর সকালে নামতেই তুলে নেন সেঞ্চুরি। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ২১৪ বলে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ম্যাথু হাম্প্রিসের বলে বিদায় নেওয়ার আগে লিটনের সঙ্গে গড়েন ১০৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি, যা বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেয়।
লিটন দাস অন্য প্রান্তে ছিলেন আরও দৃঢ়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের শততম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে সফল হন তিনি। এক বছরেরও বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে ঝরঝরে ইনিংস উপহার দেন দলের জন্য। ১৬২ বল খেলে ১০৩ রানে অপরাজিত আছেন তিনি, যেখানে রয়েছে সাতটি চার ও দুটি ছক্কার শারীরিক সৌন্দর্যে ভরা শট।
মুশফিক আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসে দায়িত্ব সামলান মেহেদী হাসান মিরাজ। সাতান্ন বলের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে তিনি ৩০ রানে অপরাজিত থেকে লিটনের সঙ্গে গড়েছেন ৭৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। তাদের সতর্ক ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে কোনো বিপদে পড়েনি দল। বরং ৩০ ওভারে এসেছে ৯৫ রান, যা দলের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে।
যদিও উইকেটে স্পিনারদের সহায়তা স্পষ্ট, তবে সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি আইরিশ স্পিনার ম্যাথু হাম্প্রিস বা অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। বাংলাদেশের ব্যাটারদের ধৈর্য, পাদচারণা ও শট বাছাই ছিল বলিষ্ঠ; ফলে প্রতিপক্ষ বোলাররা আক্রমণে ধার আনতে পারেননি।
সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১২০ ওভারে ৩৮৭ রান, হাতে এখনও পাঁচ উইকেট। লিটন-মিরাজ জুটি অপরাজিত অবস্থায় দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন চারশ রানের দোরগোড়ায়। প্রথম দিনের দাপট টিকিয়ে রেখে দ্বিতীয় দিনও একই ছন্দে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পষ্টভাবেই তাদের হাতে এনে দিয়েছে।










Discussion about this post