বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সাকিব আল হাসান শুধু দক্ষ অলরাউন্ডার হিসেবেই নন, দেশসেবার মানসিকতা নিয়েও বহুবার আলোচনায় এসেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ভবিষ্যৎ এখন ধোঁয়াশায় ঢাকা, দেশেও ফেরা হয়নি দীর্ঘদিন-তবু রাজনীতিকে কোনোভাবেই পিছনে ফেলতে চাইছেন না তিনি। নিজের মতো করে গড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রাজনীতিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে জানিয়েছেন সাকিব।
গত এক বছরে নানামুখী ঘটনার ভেতর দিয়ে গেছেন তিনি। ভারত সফরের পরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুলির ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাগুলোর একটি মামলায় তার নামও আসে। সংসদ সদস্য হলেও দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইএল টি–টোয়েন্টি খেললেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর পথচলা কার্যত স্থগিত।
তবে যত বাধাই আসুক, রাজনীতি ছাড়ার প্রশ্ন নেই-এ কথাই দৃঢ়ভাবে বললেন সাকিব, ‘আমি আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রায় অংশ শেষ করেছি। তবে রাজনীতির অংশ এখনো বাকি আছে। এটা এমন কিছু যা আমি বাংলাদেশের মানুষ ও মাগুরাবাসীর জন্য করতে চাই। আমার এমন ইচ্ছা আগেও ছিল, এখনো আছে। দেখা যাক আল্লাহ কি করেন।’
ক্রিকেটে ফেরার ইচ্ছাও তিনি লুকাননি। জানিয়েছেন, দেশের মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলেই তিন সংস্করণ থেকে বিদায় নিতে চান, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে সব সংস্করণ থেকে অবসর নেইনি আমি। এই প্রথম এটি প্রকাশ করছি। আমার পরিকল্পনা হলো বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে ওয়ানডে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসর নেওয়া।’
তিনি আরও জানান, ‘আমি বলতে চাই, একটি সিরিজে সব সংস্করণ থেকে অবসর নিতে পারি। এটি টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু করে ওয়ানডে ও টেস্ট, অথবা টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি-এভাবে হতে পারে। এর যেভাবেই হোক, আমি খুশি; কিন্তু আমি একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসর নিতে চাই। এটাই আমি চাই।’
একই সঙ্গে দেশে ফেরার আশা নিয়েও আশাবাদী সাকিব, ‘আমি আশাবাদী। এজন্যই আমি (টি-টোয়েন্টি লিগ) খেলছি। আমার মনে হয় এটা হবে।’
এই সব আলোচনা থেকে একেবারেই আলাদা এক গল্প হলো তার বোলিং অ্যাকশনের ঘটনা। গত বছর সারের হয়ে খেলতে গিয়ে ত্রুটিপূর্ণ অ্যাকশনে বোলিং করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। এবার সেই রহস্য খোলাসা করলেন, ‘আমি কিছুটা ইচ্ছা করেই ত্রুটিপূর্ণ বোলিং করেছিলাম। কারণ আমাকে ৭০ ওভারের বেশি বোলিং করতে হয়েছিল। আমি ক্যারিয়ারে আগে কখনো এমনটা করিনি… আমার মনে হয় আম্পায়াররা আমাকে আগে সতর্ক করতে পারতেন। তাঁরা তাঁদের নিয়মের মধ্যে ছিলেন। তাই আমি কোনো অভিযোগ করিনি।’
অ্যাকশন শুধরাতেও কঠোর পরিশ্রম করেছেন তিনি। প্রথম পরীক্ষায় ব্যর্থতার পর টানা দুই সপ্তাহের অনুশীলনেই পুনরায় ঠিক পথে ফেরা সম্ভব হয়েছে, ‘সারেতে ফিরে ২ সেশন বল করার পর ঠিক হয়ে গিয়েছিল। আমি আমার বেসিকে ফিরে গিয়েছিলাম, ঠিক হয়ে গিয়েছিল।’










Discussion about this post