বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গত বছরের নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক থামছেই না। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও তার সমমনা সংগঠকদের অভিযোগ, বর্তমান বোর্ড অবৈধভাবে গঠিত। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আরও অনেকে। এরই মধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
তবে এসব অভিযোগ একেবারেই নাকচ করে দিয়েছেন বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদ। তার দাবি, নির্বাচনে অনিয়মের কোনো সুযোগই ছিল না। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনের আগেই অনেকেই বর্জনের ঘোষণা দেন। ওই নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সহসভাপতি হন ফারুক।
নির্বাচন নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হওয়ার পর আজ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ফারুক। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে তো কোনো প্রতিপক্ষই ছিল না। এখানে অনিয়মের সম্ভাবনা কীভাবে দেখছেন আপনি? এখানে ভোটার ছিল মনে করেন ৭৬ জনের মতো। তার মধ্যে ৪২ টা ভোট কাস্ট হয়েছে, যেখানে আমি সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলাম। এখানে ৩৪ টা ভোট এরই মধ্যে নেই। যেহেতু প্রতিপক্ষই নেই, এখানে অনিয়মের সম্ভাবনা খুব কম। নাই বলা চলে। আমার মনে হয় যেটা ভোটাভুটি হয়েছে, ঠিকই হয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল। দেশে ফিরেই মিরপুরে বোর্ড কার্যালয়ে যোগ দেন তিনি। তবে তদন্ত কমিটি নিয়ে তার সঙ্গে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন ফারুক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এসেই এখানে শুনলাম যে তিনি অফিস করছেন। অবশ্যই আমি তাকে কল দেব। আমার সঙ্গে কথা হবে।’
এদিকে গত ১১ মার্চ এনএসসি বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই ঘটনার পর বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি কয়েকজন পরিচালকও মন্তব্য করেন, নির্বাচন আরও স্বচ্ছ হতে পারত।
তবে এই ধরনের মন্তব্যের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফারুক। তার মতে, এসব কথা পদত্যাগের আগে বলাই উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘আপনি দুইটা প্রশ্ন করেছেন। দুইজন পরিচালক পদত্যাগের পর বলেছেন যে নির্বাচন আরও স্বচ্ছ হতে পারত। এটা পদত্যাগের আগে বলতে পারলে ভালো হতো। আর হাত খুলে, মন খুলে কাজ করতে পারছেন না। এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপনি একই প্রশ্ন দুই পরিচালককে করলে এক রকম উত্তর আসবে না। এটা একটা দেখারও ব্যাপার থাকবে। শাহনিয়ানের মতো তরুণের কাজ করার আগ্রহ বেশি। সে চায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভালো কিছু করতে। এই নির্বাচনের পরে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। পুরো ব্যাপারটা স্মুথ ছিল না। আরেকটু ধৈর্য থাকা উচিত। আপনার হাতে চার বছর থাকলে উন্নতির অনেক সুযোগ থাকবে।’
তদন্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক নিয়েও বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি বিসিবির সহসভাপতি। তবে তিনি দাবি করেছেন, কোনো তথ্য গোপন করেননি। ফারুক বলেন, ‘আমার কাছে খুবই ফ্রেন্ডলি মনে হয়েছে। তাদের সবারই দেখলাম ক্রিকেট নিয়ে অনেক আগ্রহ আছে। আমাদের একজন মাননীয় বিচারক ছিলেন। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী ও একজন সাংবাদিক ছিলেন, যিনি দীর্ঘদিন খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত। ক্রিকেট সংক্রান্ত আমার তো প্রায় ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা। তারা জানতে চেয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের ব্যাপারে। আমার মনে হয় যে কাগজগুলো তাদের কাছে এসেছে, সেই কাগজগুলো নিয়েই কথা বলেছে আমার সঙ্গে। আমি যা জানি, যা সত্যি সবই বলেছি আমি।’
গতকাল মিরপুরে বিসিবিতে গিয়ে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সঙ্গে অনুশীলনও পরিদর্শন করেন ফারুক। সেখানে টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত-এর পাশাপাশি জাকের আলী অনিক, ইবাদত হোসেন চৌধুরী ও হাসান মুরাদ অনুশীলনে অংশ নেন।










Discussion about this post