বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, যা খেলাধুলাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নয়নের পথও উন্মুক্ত করছে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে খেলাধুলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হলো।
এই উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ আর্থিক বিতরণ ব্যবস্থা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতীকী বাটন প্রেসের সঙ্গে সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা করে ভাতা পাঠানো হয়। পাশাপাশি তাদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্তির একটি নির্ভরযোগ্য পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনা এসব ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্মাননা প্রদান করা হয়। পুরস্কারের ক্ষেত্রে পারফরম্যান্সভিত্তিক কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে, যেখানে একক ও দলগত ইভেন্টে পদকজয়ীদের জন্য আলাদা আর্থিক প্রণোদনা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাসিক ভাতা প্রদানের ঘোষণা ক্রীড়াবিদদের পেশাগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ক্রীড়াকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ক্রীড়া উন্নয়ন ভাবনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দেশের প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা এই বৃহৎ রূপান্তরের অংশ।
তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা খুঁজে বের করার জন্য ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। একইসঙ্গে ২০২৭ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদ তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, ক্রীড়া কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নিরাপত্তা কাঠামো। তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষা বিস্তারে প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে উন্নত করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ধাপে ধাপে ৫০০ জনকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে প্রতি চার মাস পরপর মূল্যায়নের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের এই সুবিধা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে, যা প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং আরাফাত রহমান কোকোর ক্রীড়া উন্নয়নে অবদান তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে দেশের ক্রীড়ার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি ধারাবাহিক চিত্র উপস্থাপিত হয়।










Discussion about this post