আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রোববার দুপুরে ১৭ জন বোর্ড পরিচালককে নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিসিবির ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে ভারতে বাংলাদেশের কোনো ম্যাচে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে যৌথ আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আবেদনও জানানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের উত্তেজনাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে ক্রিকেট অঙ্গনেও। এরই ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা ইস্যু সামনে এনে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স, যা ভারতীয় বোর্ডের সিদ্ধান্তে কার্যকর হয় বলে জানা গেছে।
মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর গতকাল রাতেও বিসিবি পরিচালকেরা অনলাইনে বৈঠক করেন। সে সময় অধিকাংশ পরিচালক কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিপক্ষে মত দিলেও সরকারের মনোভাব স্পষ্ট হওয়ার পর আজকের সভায় অবস্থান পরিবর্তন করে বোর্ড। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রকাশ্যে ভারতের ভেন্যুতে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিকল্প ভেন্যুর পরামর্শ দেন। তার নির্দেশনার পরই বিসিবি আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায়।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ভারতে হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে নির্ধারিত ছিল। এখন বিসিবির সিদ্ধান্তের ফলে সেই সূচি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিসিবির এই অবস্থানের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট অঙ্গনে নজর এখন আইসিসির সিদ্ধান্তের দিকে। আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা শঙ্কা ও ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন কীভাবে বিবেচনা করে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের চূড়ান্ত রূপরেখা।










Discussion about this post