ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে ধীরে ধীরে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। কেন্টের হয়ে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলেই ব্যাট ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। মিডলসেক্সের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে ৪৯ রানের জয় পেয়েছে কেন্ট, আর সেই সাফল্যের পেছনে ছিল হাসানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪১৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে কেন্ট। দলের নিচের সারিতে নেমে মূল্যবান ২২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন হাসান মাহমুদ। ৩৯ বলের ইনিংসটি খুব বড় না হলেও দলের সংগ্রহকে আরও শক্ত ভিত্তি এনে দেয়। তাঁর ধৈর্যশীল ব্যাটিং কেন্টকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর গড়তে সহায়তা করে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে মিডলসেক্স প্রথম ইনিংসে ৪৪৩ রান তুলে ২৭ রানের লিড নেয়। তবে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন হাসান। ২০ ওভার বল করে ৭৭ রান খরচায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। নতুন বলে গতি ও নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখেন বাংলাদেশি এই পেসার।
দ্বিতীয় ইনিংসে কেন্ট ২৫৭ রান সংগ্রহ করে। এবার ব্যাট হাতে বড় কিছু করতে না পারলেও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় ক্রিজে ছিলেন হাসান। পাঁচ বল মোকাবিলা করে শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। কেন্টের দেওয়া ২৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ভালো অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে মিডলসেক্সের ব্যাটিং লাইনআপ।
মাত্র ১৮১ রানে গুটিয়ে যায় দলটি। দ্বিতীয় ইনিংসেও উইকেটের দেখা পান হাসান মাহমুদ। ৫১ রান খরচায় একটি উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের রান তাড়াকে কঠিন করে তোলেন তিনি। তবে ম্যাচের সেরা বোলিং পারফরম্যান্সটি আসে তাঁর সতীর্থ ম্যাট মিলনেসের কাছ থেকে। ৩১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে মিডলসেক্সের ব্যাটিং ধসের প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি।
তবে পুরো ম্যাচের দিকে তাকালে হাসান মাহমুদের অবদান ছিল দুই বিভাগেই। ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ রান, আর বল হাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে তিন উইকেট—সব মিলিয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের আরেকটি প্রমাণ দিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের হয়ে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ পাওয়া এই পেসার ইংল্যান্ডের কন্ডিশনেও দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
এই জয়ের ফলে আট ম্যাচে চার জয় ও তিন ড্রয়ে কেন্টের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১১৭ পয়েন্ট। পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দলটি। শীর্ষে রয়েছে এখনো অপরাজিত থাকা দল ডারহাম।










Discussion about this post