সিলেটে বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় দিনে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের হয়ে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছেন ম্যাথু ক্যাম্পবেল। সাবেক জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক অ্যালেস্টার ক্যাম্পবেলের ছেলে শতক পূরণের পর অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি। এরপরও আন্তুম নাকভির লড়াকু ব্যাটিংয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে সফরকারীরা। তবে দিনের শেষ ভাগে মুশফিক হাসানের জোড়া উইকেটে ম্যাচে ফেরার আভাস পেয়েছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের সংগ্রহ ৮০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান। বৃষ্টির কারণে প্রথম দিনে খেলা হয়েছিল মাত্র ৩৮ ওভার, আর দ্বিতীয় দিনেও মাঠের ভেজা অবস্থার কারণে খেলা শুরু হয় দুপুর সোয়া দুইটায়। এদিন মোট ৪২ ওভার খেলা সম্ভব হয়।
৯১ রানে দিন শুরু করা ম্যাথু ক্যাম্পবেল শুরু থেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। বাবার মতো বাঁহাতি এই ব্যাটার দিনের তৃতীয় ওভারে মুশফিক হাসানকে পুল করে ছক্কা হাঁকান। পরের ওভারে আসাদুল্লাহ আল গালিবের বলে পয়েন্ট দিয়ে চার মেরে পৌঁছে যান শতকের মাইলফলকে। মাত্র ৮৫ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
শতকের পথে দুইবার জীবন পাওয়া ম্যাথু শেষ পর্যন্ত ১১৯ রান করে থামেন। ১১৮ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ১৮টি চার ও ২টি ছক্কা। এনামুল হক এনামের রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে লাইন মিস করলে বল গিয়ে আঘাত হানে অফ স্টাম্পে। তার বিদায়ের আগে আন্তুম নাকভির সঙ্গে গড়ে ওঠে ৫৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
ম্যাথুর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন তার বড় ভাই জোনাথন ক্যাম্পবেল। জিম্বাবুয়ের হয়ে একটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলা এই ব্যাটারও সাবলীল ব্যাটিং করেন। নাকভির সঙ্গে আরেকটি কার্যকর জুটি গড়ে তোলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল দিনের বাকি সময় নির্বিঘ্নেই পার করে দেবেন দুজন। তবে শেষ বিকেলে আঘাত হানেন মুশফিক হাসান। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা ভেতরে ঢোকা এক বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন জোনাথন। ৩৩ রানের ইনিংসে তিনি চারটি চারের পাশাপাশি নাঈম আহমেদের বলে একটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কাও মারেন।
এরপর নতুন ব্যাটার ও অধিনায়ক ক্লাইভ মাডান্ডেকে শূন্য রানে ফেরান মুশফিক। শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ব্যর্থ হলে স্কয়ার লেগ থেকে সামনে দৌড়ে এসে অসাধারণ ক্যাচ নেন এনামুল হক এনাম। এই দুই উইকেট বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।
দিনের বাকি সময় কোনো বিপদ ছাড়াই কাটিয়ে দেন আন্তুম নাকভি ও ভিনসেন্ট মাসেকেসা। নাকভি ১৩৫ বলে ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর মাসেকেসা দিনের খেলা শেষ করেন ৩ রানে অপরাজিত থেকে।
জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল এখনও শক্ত অবস্থানে থাকলেও বাংলাদেশের জন্য আশার খবর, ৮০ ওভার পূর্ণ হওয়ায় তৃতীয় দিনের শুরুতেই নতুন বল নেওয়ার সুযোগ থাকবে তাদের সামনে। নতুন বল কাজে লাগিয়ে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচে আরও ভালোভাবে ফিরে আসতে পারবে স্বাগতিকরা।










Discussion about this post