ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেও নিজেদের স্বপ্নের পথেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে তিন ম্যাচে দুটি জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এক আসরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড গড়ে এখন তাদের চোখ সেমিফাইনালের মঞ্চে।
সেই লক্ষ্য পূরণের পথে আজ সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটির নাম ভারত। এরপর রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কঠিন এই সমীকরণে দুটি ম্যাচেই জয় পেলে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। তবে চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক, আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না দলের ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি।
ভারত ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখন ভালো পজিশনে আছি। পরের দুই ম্যাচে ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের অবস্থান এখন অনেক ভালো, জেতার পর দলের মনোভাব অন্যরকম থাকে। আমরা চেষ্টা তো অবশ্যই করব, ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ (জেতার এবং সেমিতে যাওয়ার)।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিক থাকলেও ব্যাটিংয়ে আরও উন্নতির সুযোগ দেখছেন মোস্তারি। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে এবং বড় দলের বিপক্ষে অভিজ্ঞতার জায়গাটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি।
মোস্তারির ভাষায়, ‘নেদারল্যান্ডসের সাথে পাওয়ারপ্লেটা আসলেই ভালো করেছিলাম। পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সাথে সেভাবে খেলার আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। বিশ্বকাপে এলে তাদের সাথে খেলা হয়। এখানে অভিজ্ঞতার একটু ঘাটতি ছিল, যা অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে দেখা গেছে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পাওয়া ম্যাচেও ব্যাটিংয়ের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল বলে মনে করেন তিনি। তবে দলের বিভিন্ন ব্যাটারের দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ম্যাচে পরপর উইকেট যাওয়ায় সেভাবে চার্জ করতে পারিনি। তবুও মিডলঅর্ডার এবং স্বর্ণা দারুণ ফিনিশ করেছে। কেউ না কেউ ভালো করছে। প্রথম ম্যাচে টপঅর্ডার ভালো করলেও মিডলঅর্ডার ভালো করতে পারেনি। পরের দুই ম্যাচ জিততে প্রতিটি বিভাগে ভালো খেলতে পারলেই জেতার সম্ভাবনা থাকবে।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত নাম স্বর্ণা আক্তার। তার ব্যাটিং পজিশন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মোস্তারির মতে, বর্তমান ভূমিকাতেই সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই তরুণ ব্যাটার।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নরমালি স্বর্ণা আমাদের দলে ছয়েই খেলে। ওই পজিশনে সে অভ্যস্ত। সে যেভাবে ব্যাট করে আসছে, সে এখানেই অভ্যস্ত যে কম বলে বেশি রান করতে হবে। চার এবং পাঁচে আমি এবং জ্যোতি আপু খেলি তাই সে ছয়ে ব্যাট করে।’
তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাকে আরও ওপরে খেলানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি মোস্তারি। তিনি বলেন, ‘আগের ম্যাচে শুরুতে উইকেট চলে যায়, ওই জায়গায় হ্যান্ডেল করার জন্য রিতু মনিকে নামানো। প্ল্যানিংটাই সেভাবে ছয়ে খেলানোর। যদি তাকে সেভাবে অনুশীলন করে প্রস্তুত করা হয় সামনে হয়ত আগে নামানো হতে পারে, ৯-১০ ওভারে হয়ত নামানো যাবে।’
ভারতকে নিয়ে বাস্তবতাও জানেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। নারী ক্রিকেটে দুই দলের শক্তির ব্যবধান এখনও স্পষ্ট। কিন্তু মাঠে নেমে সেই ব্যবধান কমিয়ে আনার বিশ্বাস রাখছেন মোস্তারি।
তিনি বলেছেন, ‘ভারত অনেক ভালো দল। এটা আমরা সবাই জানি। তবুও আমাদের মনে হয় আমাদের যে শক্তি আছে, যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, চেষ্টা করি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। পাকিস্তান ম্যাচ জেতার পর দলের মনোবল বেশ ভালো। শক্তি অনুযায়ী খেলতে পারলে ভারতকে হারাতে পারবো।’
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আলাদা আবেগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোস্তারি বলেন, ‘(ভারত) আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ, সবসময় খেলাটা উপভোগ করি। ওরা যেভাবে উন্নতি করেছে, আমাদের পাশের দেশ হয়েও এত ভালো উন্নতি করেছে। ভারত পাকিস্তান যে দলের সাথেই খেলা হয়, আমাদের মধ্যে অনেক এক্সাইটমেন্ট কাজ করে।’
অন্যদিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতও। ম্যাচের আগে ভারতীয় ওপেনার শেফালি ভার্মা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
শেফালি বলেন, ‘আপনি কোনো দলকেই হালকাভাবে নিতে পারবেন না। তারাও নিজেদের খেলা দেখাতে এসেছে। ম্যাচ ধরে ধরে আমরা আগাব। ২ ম্যাচ জিততে হবে আমাদের (সেমিতে যেতে)। তবে আমরা এক ম্যাচ ধরেই আগাতে চাই, বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা খেলে ম্যাচটা জিততে চাই।’
দুই দলের জন্যই ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক। বাংলাদেশের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ, আর ভারতের সামনে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার মিশন। তাই মাঠের লড়াই শুরুর আগেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত বাংলাদেশ কি না ভারতের বিপক্ষে নতুন কোনো গল্প লিখতে পারে।










Discussion about this post