জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাইপলাইন শক্তিশালী করতে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্যায় থেকেই প্রতি বছর উঠে আসে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটাররা। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হিসেবে আস্থা রেখেছে হান্নান সরকারের ওপর। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হান্নান সরকার জানান, কোচিংয়ে আসার স্বপ্ন তার অনেক আগের। তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন তো কোচিংয়ে আসার অনেক আগে থেকেই ছিল। নির্বাচক হওয়ার আগেও কোচিংয়ে ছিলাম। ২০১১ সালে খেলা ছাড়ার পর তিন বছর প্রিমিয়ার লিগে কোচিং করিয়েছি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোচ ছিলাম, তারপর নির্বাচকের দায়িত্বে আসা। ৯ বছরের জার্নি শেষ করে একটা সুযোগ আসলো।’
ক্রিকেট প্রশাসনের দায়িত্ব ছেড়ে আবারও পুরোপুরি কোচিংয়ে ফেরার সিদ্ধান্তকে নিজের জন্য সঠিক বলে মনে করছেন সাবেক এই জাতীয় ক্রিকেটার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে আমাদের বোর্ড যখন দেশি কোচদের অগ্রাধিকার বা প্রমোট করছে। সেখান থেকেই আমার স্বপ্নটা আবার নতুন করে জাগে। সুযোগটা যখন আসে, তখন এক বছর থাকতেই আমি নির্বাচকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করি। নিশ্চিতভাবেই আমার জন্য ভালো একটা সিদ্ধান্ত ছিল। সেটার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে যে ক্রিকেট বোর্ডও আমার উপর বিশ্বাস রাখছে।’
নতুন দায়িত্বে তার প্রধান লক্ষ্য হবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার তৈরি করা। বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। হান্নান বলেন, ‘আমাদের সভাপতি এবং গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যখন কথা বলি তখন সিরিয়াস আলোচনা হয়েছে। খেলোয়াড় তৈরি করাটা আসল ফোকাস থাকবে, কারণ অনূর্ধ্ব-১৯ দল শেষ হওয়ার পরে আমরা যদি ধরি অনূর্ধ্ব-২৩ দল, এইচপি যেখানেই যাবে খেলোয়াড়রা সেখানেই যেন ৫-৭-১০ জন খেলোয়াড় যায় যেন বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের খেলোয়াড় তৈরিতে ফোকাস থাকবে। রেজাল্টের দিকে নিশ্চিতভাবেই নজর থাকবে কিন্তু মূল ফোকাসটা মানসম্পন্ন খেলোয়াড় তৈরি করা বা আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির জন্য প্রসেস মেইনটেইন করার প্রতি থাকবে। সেটার সঙ্গে রেজাল্ট সময়ই বলে দেবে।’
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্ব নিয়ে হান্নান সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের গড়ে তোলা। বিসিবিও আশা করছে, তার অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে যুব ক্রিকেট থেকে জাতীয় দলের জন্য আরও শক্তিশালী ক্রিকেটারদের সরবরাহ নিশ্চিত হবে।



