টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়কে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে দেশটির ক্রিকেট প্রশাসনে। ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন দলটির গ্রুপ পর্বেই ছিটকে পড়া মেনে নিতে পারছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়ের ধাক্কায় সুপার এইটের আশা শেষ হয়ে যায় আগেভাগেই। শুক্রবার ওমানের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচ খেলেই দেশে ফিরবে দল, তবে ফেরার পরই অপেক্ষা করছে কঠোর মূল্যায়ন।
প্রধান নির্বাচক টনি ডোডমেড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বিশ্বকাপে আমাদের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক। ক্রিকেটাররা দেশে ফিরলে প্রত্যেকের পারফরম্যান্স অত্যন্ত নিবিড়ভাবে বা ফরেনসিকের মতো খুঁটিয়ে দেখা হবে।’ তার এই বক্তব্যেই পরিষ্কার, বোর্ড আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং বিশদ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পথে হাঁটতে চায়।
অস্ট্রেলিয়ার এবারের দল ছিল চোট-জর্জর। প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডের মতো প্রধান পেসারদের পাওয়া যায়নি। অধিনায়ক মিচেল মার্শও শুরুর দিকে ছিটকে ছিলেন। তবু বোর্ডের অবস্থান পরিষ্কার, চোটকে ঢাল বানানো যাবে না। নির্বাচক মহলের মতে, ব্যর্থতার পেছনে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করাই এখন অগ্রাধিকার।
ওয়ানডে সংস্করণে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও রেকর্ড শিরোপাধারী হলেও টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্য সীমিত। ২০০৯ সালের পর এবারই প্রথম তারা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিচ্ছে। একমাত্র শিরোপা ২০২১ সালে জয়ের পর আর কোনো আসরেই নিজেদের উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি দলটি। অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তির জন্য শিরোপা ছাড়া অন্য কিছু বরাবরই ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হয়, ফলে এবারের ফলাফল নিয়ে হতাশা আরও তীব্র।
কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড মনে করেন, দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে গুরুত্ব দেয় না-এমন ধারণা তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক ফলাফলের কারণেই। তিনি বলেন, ‘অনেকটা সময় ধরেই এই বিশ্বকাপে বুঁদ ছিলাম আমরা। আমাদের অগ্রাধিকারগুলোর একটি ছিল এটি। এই ধরনের আখ্যান আমিও শুনেছি যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে আমরা পাত্তা দেই না। আমার মনে হয়, এই আসরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স থেকেই এসবের জন্ম হয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমরা জিতেছি এবং পরের আসরগুলোয় সফল হতে পারিনি। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে প্রত্যাশা সবসময়ই অনেক উঁচুতে এবং তা সঠিকভাবেই। তবে আমরা অন্য সংস্করণ বা অন্য টুর্নামেন্টগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছি, কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে দিচ্ছি না, এসব ধারণা পুরোপুরি মিথ্যে।’
চোটের প্রসঙ্গেও দায় এড়াতে চান না তিনি, ‘কোন ক্রিকেটারদের আমরা পাইনি, সেটা কখনোই আলোচনায় থাকা উচিত নয়। বরং তাকানো উচিত পারফরম্যান্সের দিকে এবং সেখানে আমরা হতাশ। এটাকে আলিঙ্গন করে নিতে হবে আমাদের এবং সমালোচনাগুলি ন্যায্য ও যৌক্তিক।’
ম্যাকডোনাল্ডের বিশ্লেষণে মূল সমস্যা ছিল সম্মিলিত ব্যর্থতা, ‘সত্যি বলতে, মূল ব্যাপার হলো, আমাদের অনেক ক্রিকেটার একসঙ্গে পারফর্ম করতে পারেনি। এই দলের জন্য যা বিরল ব্যাপার। পেছন ফিরে তাকালে দেখতে পাবেন, সবসময়ই অন্তত দুজন দাঁড়িয়ে যেত ব্যাট হাতে, যা আমাদেরকে (ভালো) সংগ্রহ এনে দিত। এবার তা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বোলিংয়ের দিক থেকে বললের, যাদেরকে আমরা পাইনি, তাদের দিকে তাকানো খুব সহজ এবং সেটি অবশ্যই কিছুটা হলেও দলকে নড়বড়ে করেছে। তবে এখানে যারা সুযোগ পেয়েছে, তারাও যথেষ্ট ভালো। এই উপলব্ধি নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিচ্ছি যে, যথেষ্ট ভালো ছিলাম আমরা এবং সুযোগগুলো নিতে না পেরে ও টুর্নামেন্টের পরের ধাপে নিজেদের তুলতে না পেরে আমরা প্রচণ্ড হতাশ।’
আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বসবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের অলিম্পিকেও ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজাতে তাই এখন থেকেই নড়েচড়ে বসেছে বোর্ড।










Discussion about this post