বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই চোখ রেখেছে বিপিএল আয়োজনে। নির্বাচনের পর এবার নতুন উদ্যোমে প্রস্তুতি নিচ্ছে বোর্ড। ইতোমধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, এবং সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরের মধ্য ভাগেই অনুষ্ঠিত হবে বিপিএল খেলোয়াড় ড্রাফট। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে এ ড্রাফট অনুষ্ঠান।
বিসিবি এবার প্রথমবারের মতো বিপিএলে নিয়ে এসেছে ‘রেভিনিউ শেয়ারিং’ মডেল, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য একটি নতুন বাণিজ্যিক দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তবে শুরু থেকেই আয়োজনের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিল বোর্ড। প্রাথমিকভাবে বিকল্প উইন্ডো হিসেবে এপ্রিল-মে মাসের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওই সময় দেশে বৃষ্টি ও ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে বিপিএল আয়োজন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জলবায়ু বিবেচনায় এপ্রিল ও মে মাস বৃষ্টিপ্রবণ। এই সময় বৈশাখী ঝড় ও বর্ষাকাল একসাথে শুরু হয়। তাছাড়া আমাদের এফটিপি অনুযায়ী ঐ সময়ে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজ রয়েছে। ফলে ওই সময় কোনো নির্দিষ্ট উইন্ডো পাওয়া সম্ভব নয়।’
এদিকে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিপিএল আয়োজনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো বিদেশি ক্রিকেটার পাওয়া। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয় আইএল টি-টোয়েন্টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে এসএ টোয়েন্টি লিগ। তবুও আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, এর আগেও একই চ্যালেঞ্জের মুখে বিপিএল আয়োজন করে সফল হয়েছে বিসিবি।
তিনি বলছিলেন, ‘গত দুই মৌসুমেও বিপিএল একই সময়ে মাঠে গড়িয়েছে, যখন আইএল টি-টোয়েন্টি ও এসএ টোয়েন্টি চলছিল। কিছুটা প্রভাব পড়েছিল বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে, কিন্তু বলা যাবে না যে আমরা খেলোয়াড় পাইনি। যথেষ্ট মানসম্পন্ন বিদেশি ক্রিকেটার পেয়েছিলাম আমরা।’
বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু জানিয়েছেন, আসন্ন ডিসেম্বর-জানুয়ারিতেই বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও জাতীয় নির্বাচন থাকায় মাত্র এক মাসের সময় পাচ্ছে বোর্ড। তাই এবার তুলনামূলক ছোট পরিসরে, পাঁচ বা ছয় দলের টুর্নামেন্ট করার কথা ভাবা হচ্ছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্যও থাকছে কড়াকড়ি শর্ত। আমজাদ হোসেন জানান, প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দিতে হবে ২ কোটি টাকা ফি, সঙ্গে ছয় মাসের জন্য ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে।










Discussion about this post