বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার বার্তা দিয়েছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন সামনে রেখে তিনি জানিয়েছেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রাখা হবে না।
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তামিম ইকবাল ও তার সমমনা সংগঠকেরা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদকে অবৈধ দাবি করেছিলেন। এ নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাছেও চিঠি দেন তারা। পরে গত ৭ এপ্রিল এনএসসি বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে, যার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় তামিম ইকবালকে।
গতকাল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আমি আমার অধীনে যতটা পারি স্বচ্ছতা রেখে নির্বাচন করছি। ক্লাব নিয়ে অংশ নিচ্ছি। আজ জমা দিয়েছি। আপনারাও খোঁজ নিলে দেখবেন ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোনো তদবির, অনুরোধ খুঁজে পাবেন না। ইলেকশন যতটা সম্ভব স্বচ্ছ যেন হয়, সবাইকে কঠোর বার্তা দেওয়া আছে।’
নির্বাচন ঘিরে অতীতে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে তার বক্তব্যে। এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘প্রত্যেকবার নির্বাচন নিয়ে তো অনেক কথা থাকে। এইবারও যেমন তারা মনে করেন,আপনি এবং আপনার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে কথা বলেছেন। এইবার এখন পর্যন্ত কেউ আসেননি। যদিও নির্বাচন কমিশন তো আলাদা তবে আপনি যেহেতু দায়িত্বে আছেন, আমি যা করেছি নিজেকে এ জায়গা থেকে পুরোপুরি সরিয়ে নিয়ে এসেছি। এখন এই জিনিসটা পুরাপুরি নির্বাচন কমিশনের ওপর। পার্থক্য এটাই যে আমি কোনো চিঠিতে স্বাক্ষর করছি না। কোনো কাউন্সিলরশিপ ফেরত দিচ্ছি না।’
আগামী ৭ জুনের নির্বাচনে মোট ১৮৪ জন ভোটার অংশ নেবেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ২০ জন ক্রিকেটারও। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তামিমের পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গুঞ্জন উঠলেও তিনি তা নাকচ করে দেন। গত ৩০ এপ্রিল মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানান, তিনি পদত্যাগ করছেন না। পরবর্তীতে ৭ মে বিসিবিতে আয়োজিত আরেক সংবাদ সম্মেলনে বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ এবং ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক জটিলতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
বর্তমানে বিসিবির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তামিম। বাংলাদেশের ম্যাচের দিন ছাড়াও নিয়মিত মিরপুরে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।










Discussion about this post