টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে। ভারতে গিয়ে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অনড় থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো পরিষ্কার দিকনির্দেশনা আসেনি। এই টানাপোড়েনের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে জাতীয় দলের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসের কথায়।
বিপিএলের এলিমিনেটরে সিলেট টাইটানসের কাছে শেষ বলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক লিটন দাস। ম্যাচ-পরবর্তী প্রশ্নোত্তরে বিশ্বকাপই হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নে লিটন বলেন, ‘সিউর না।’
বোর্ডের অবস্থান আদর্শ কি না-এমন প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করতে চাননি। তার সরাসরি উত্তর ছিল, ‘নো কমেন্ট।’ এরপর জানতে চাওয়া হয়, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিসিবির সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না। লিটনের জবাব ছিল এক শব্দের, ‘না।’
‘আলোচনা কি করা উচিত ছিল?’-এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, আমার সঙ্গে কথা হয়নি।’ একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলনেই উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন অধিনায়ক, ‘আপনি কি নিশ্চিত আমরা বিশ্বকাপ খেলব?’
বিশ্বকাপ ঘিরে ক্রিকেটারদের অনিশ্চয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিটন বলেন, ‘আমরা ১৫ জনের কেউই জানিনা কোন দেশে যাব কই খেলব। শুধু আমরা না পুরো দেশই জানে না।’ আরও স্পষ্ট করে তিনি যোগ করেন, ‘আপনারা তো এর মধ্যেই দল জানেন যে কোন ১৫ জন যাবে। সেই ১৫ জনও এখনো জানে না যে আমরা কোন দেশে যাব বা কাদের বিপক্ষে খেলব।’
এক বছর ধরে টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ টানা পাঁচটি সিরিজ জিতেছে। পুরো পরিকল্পনাই ছিল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। অথচ এখন বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এসে এমন অনিশ্চয়তায় পড়তে হচ্ছে দলকে, যেখানে গ্রুপ, ভেন্যু বা অংশগ্রহণ-কোনোটিই নিশ্চিত নয়।
এই মানসিক চাপ লুকানোর চেষ্টা না করেই লিটন বলেন, ‘যদি আপনি জানতেন যে আপনার গ্রুপে কে থাকবে, আপনি কোন দেশে যাচ্ছেন, এটা সাহায্য করত। এখন যে জিনিসটা হাতেই নেই আমার বা আমাদের। আমার জায়গা থেকে আমি যেমন অনিশ্চয়তায় আছি, সবাই অনিশ্চয়তায়। আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে পুরো বাংলাদেশই অনিশ্চিত।’
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বিসিবি ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান জানতে চাইলে লিটন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরিস্থিতি আদর্শ কি না-এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দেখেন ভাইয়া, অনেক কিছুই জীবনে আদর্শ নয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে চলে এলে ওটাকে গ্রহণ করে নিতে হবে।’
এলিমিনেটর ম্যাচের উইকেট নিয়েও নিজের মত জানান লিটন। তার মতে, ‘টি-টোয়েন্টির জন্য এটা আদর্শ উইকেট নয়, আমি এটুকু বলতে পারি। বিশ্বকাপের জন্য (আদর্শ) কি না, এটা আমি জানি না। প্লে–অফের ম্যাচে আরও ভালো উইকেট আশা করছিলাম।’
বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ না খেললে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার গুঞ্জন থাকলেও আইসিসি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানায়নি। তবে মাঠের বাইরের এই অনিশ্চয়তার মাঝেই মাঠের ক্রিকেটে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টায় আছেন ক্রিকেটাররা।










Discussion about this post