ক্রিকেট বিশ্বকাপে ইতালির নামটা ঘোষণার দিন থেকেই কৌতূহল তৈরি করেছিল। ফুটবলের দেশ হিসেবে পরিচিত চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এবার প্রথমবার পা রাখল ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। সেই ঐতিহাসিক অভিষেক ম্যাচেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে যেতে হলো তাদের, তবে এই হার দিয়েই শেষ হয়ে যায় না ইতালির বিশ্বকাপ গল্প।
এবারের আসরের শুরুতে ব্যাটারদের জন্য রান করা সহজ ছিল না। প্রথম দুই দিনে ছয়টি ম্যাচে ভারত, ইংল্যান্ড কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজ—কেউই আগে ব্যাট করে ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। সেই ধারার ইতি টানে স্কটল্যান্ড, ইতালির বিপক্ষে সপ্তম ম্যাচে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৭ রান তুলে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো সহযোগী সদস্য দেশের পক্ষে এটি সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
এই রানের পাহাড় ডিঙাতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ইতালি। ইনিংসের প্রথম বলেই জাস্টিন মসকার উইকেট হারানোর পর পাওয়ারপ্লের মধ্যেই আরও দুই ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন। ম্যাচ তখন কার্যত একপেশে হয়ে উঠলেও চতুর্থ উইকেটে হ্যারি ম্যানেত্তি ও বেন ম্যানেত্তির জুটি কিছুটা আশা জাগায়। দুই ভাই মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৭৩ রান, যা ম্যাচে ইতালির সবচেয়ে বড় লড়াইয়ের মুহূর্ত।
কিন্তু সেই প্রতিরোধ ভাঙতে স্কটল্যান্ডের খুব বেশি সময় লাগেনি। ১১৩ রানে হ্যারি ম্যানেত্তি আউট হতেই ইতালির ইনিংস হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। মাত্র ২১ রানের মধ্যে শেষ ছয় উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানেই থামে তারা। পুরো ২০ ওভারও খেলতে পারেনি দলটি। তার ওপর ফিল্ডিংয়ের সময় গুরুতর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন। পরে আর ব্যাট করতেও নামেননি তিনি, এমনকি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
স্কটল্যান্ডের আধিপত্যের শুরুটা অবশ্য আরও আগেই। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে জর্জ মানসি ও মাইকেন জোনসের উদ্বোধনী জুটিতে তারা পেয়ে যায় ১২৬ রান। মানসি খেলেন ৫৪ বলে ৮৪ রানের দাপুটে ইনিংস, জোনস যোগ করেন ৩০ বলে ৩৭। শেষ দিকে ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেন ও মাইকেল লিস্কের ঝোড়ো ব্যাটিং স্কোরকে নিয়ে যায় দুইশর ওপারে। পরে বল হাতেও কার্যকর ছিলেন লিস্ক, ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন।
হার দিয়ে শুরু হলেও ইতালির লক্ষ্য এখন সামনে তাকানো। ম্যাচ শেষে ভাইস ক্যাপ্টেন হ্যারি ম্যানেত্তি স্বীকার করেন হতাশা আছে, তবে দল নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণে প্রস্তুত। কয়েক দিনের মধ্যেই আবার মাঠে নামবে তারা, সেখানেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা।
বিশ্বকাপে ইতালির যাত্রা শুরু হলো বড় এক ধাক্কা দিয়ে। কিন্তু এই অভিষেকই তাদের শেষ পরিচয় নয়। নেপাল, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচগুলোতেই ঠিক হবে, ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে ইতালি কতটা সাহসী গল্প লিখতে পারে।










Discussion about this post