ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের শেষ দিনে সবচেয়ে আলোচিত নাম লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। প্রথম দিনে জাতীয় দলের দুই অধিনায়ক লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ দল না পেলেও দ্বিতীয় দিনে দুজনকেই দলে টেনে বড় চমক দেখিয়েছে ক্লাবটি। এক ঝটকায় দলবদলের বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রূপগঞ্জ, সঙ্গে শিরোপা লড়াইয়েও নিজেদের নাম জোরালোভাবে লিখিয়ে দিয়েছে তারা।
লিটনের জন্য এমন পরিস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। গত মৌসুমেও দল পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে তামিম ইকবালের দল গুলশান ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন তিনি। এবারও শুরুতে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নতুন ঠিকানা পেলেন রূপগঞ্জে।
রূপগঞ্জে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি লিটন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই এটা আমার জন্য ভালো একটা অভিজ্ঞতা। যেহেতু অনেকদিন ধরে একটা জায়গায় খেলছিলাম, লাস্ট ইয়ার গুলশানেও খেলেছি। এবার নতুন একটা টিমে সুযোগ পেলাম। আর আমরা সবাই বাদল ভাইকে আগে থেকেই চিনি। তিনি বরাবরই চেষ্টা করেন ভালো টিম গঠন করার জন্য। আমরাও চেষ্টা করব, যে কয়জনই আছি, যে কয়টা ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই, প্রতিটা ম্যাচে যেন টিমকে যতটা সম্ভব হেল্প করতে পারি।’
রূপগঞ্জের কর্ণধার লুৎফর রহমান বাদলও লিটনকে নিয়ে মজা করলেন সাংবাদিকদের সামনে। তিনি বলেন, ‘লিটনের অভিযোগ ছিল আমি নাকি তাকে নেই না, ওর সারাজীবনের অভিযোগ।’
মিরাজের কণ্ঠেও ছিল কৃতজ্ঞতা আর আত্মবিশ্বাস। নতুন দলে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের দুইজনকে দলে নেওয়ার জন্য বাদল ভাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমি এবারই প্রথম রূপগঞ্জে খেলছি। আমরা সবাই জানি, ক্লাব ক্রিকেটে বাদল ভাইয়ের অবদান অনেক বড়। আমরা দুইজন এবারই প্রথম সুযোগ পেয়েছি, চেষ্টা থাকবে সর্বোচ্চটা দেওয়ার। বাদল ভাই অনেক চ্যাম্পিয়ন দল করেছেন এবং ক্লাব ক্রিকেটে আমার কাছে মনে হয় যে অনেক জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও তার টিম থেকে খেলেছে। এটা বাংলাদেশক্রিকেটের জন্য একটা পজেটিভ দিক ছিল। আশা করি যে আপনার দল থেকে আরও অনেক অনেক ভালো ভালো ক্রিকেটার দেবেন বাংলাদেশ দলের জন্য এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য।’
জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজ পুরো লিগ খেলতে পারবেন না। ফলে তাকে নিয়মিত নেতৃত্বে দেখার সম্ভাবনা কম। সাংবাদিকেরা যখন লিটনের কাছে জানতে চান অধিনায়ক কে হবেন, তখন তিনি রসিকতা করে মিরাজের দিকেই ইশারা করেন।
নেতৃত্বের বিষয়ে বাদল বলেন, ‘আমাদের জানেন, দুইজনেই অধিনায়ক। ওরা, ওরা সিদ্ধান্ত নেবে কে ক্যাপ্টেন। আর ওরা না থাকলে আমরা হয়তোবা চিন্তা করছি যে এদের বাইরে যারা অ্যাভেলেইবল আছে, আমাদের জাতীয় দলের আরও প্লেয়ার আছে। নাসুম, শেখ মেহেদী আছে, তারপর আমাদের শরিফুল আছে। তাদের মধ্যে থেকে একজন অধিনায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।’
তবে অধিনায়কত্বের চেয়ে বড় বিষয় এখন রূপগঞ্জের লক্ষ্য। সেটি শিরোপা। মিরাজ বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার জন্য। কারণ টিমটা অনেক ভালোভাবে গঠন করা হয়েছে। আমরা যদি সবাই একসঙ্গে ভালো বন্ডিং নিয়ে খেলতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ অবশ্যই থাকবে।’
একই বিশ্বাস লিটনেরও। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সবাই একসঙ্গে ভালো বন্ডিং নিয়ে খেলতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার সবসময় ন্যাশনাল ডিউটি। এরপর সুযোগ পেলে যে কয়টা ম্যাচই খেলি না কেন, আমাদের লক্ষ্য থাকবে ক্লাবকে সর্বোচ্চভাবে সাহায্য করা।’
জাতীয় দলে বহুদিনের সতীর্থ লিটন ও মিরাজ এবার প্রথমবারের মতো ক্লাব ক্রিকেটে একই দলে খেলবেন। সেই নতুন অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন লিটন। তিনি বলেন, ‘মিরাজের সঙ্গে এর আগে ক্লাব ক্রিকেটে কখনো খেলা হয়নি। আমরা অবশ্যই জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলেছি টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি সব ফরম্যাটেই। কিন্তু ঢাকা লিগে এটা আমার জন্য ফার্স্ট টাইম, তাই খেলার পরেই আসলে ভালোভাবে রিঅ্যাকশনটা দিতে পারব।’
রূপগঞ্জের দল গড়ার গল্পটিও নাটকীয়। শুরুতে দল গঠনে আগ্রহ কম থাকলেও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অনুরোধে রাজি হন লুৎফর রহমান বাদল। পরে দল গড়েই দেখালেন বড় চমক।
বাদল বলেন, ‘আমার মনে হয়, আপনারা জানেন সবই ঘটনা। আমি আর ওটা পিছনে যাচ্ছি না। আমাদের সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রী, আমাদের বোর্ড প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবাল আমাকে অনুরোধ করেছিল। আপনারা জানেন যে আমি দলের অনেককেই ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিছু ধরে রাখতে পেরেছি। তারপরে আমাদের পেলাম জাতীয় দলের দুই আইকনকে। দুইজনেই দুই ফরম্যাটের অধিনায়ক। এবং আশা করছি এদেরকে নিয়ে এবার আমরা চ্যাম্পিয়নের লড়াইয়ে থাকবো।’










Discussion about this post