বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসর শুরু হয়েছে, কিন্তু টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ট্রফিটি উদ্বোধনী দিনেও দৃশ্যমান হয়নি। বিসিবির উদ্যোগে নতুন করে তৈরি হওয়া বিপিএল ট্রফিটির মূল্য ধরা হয়েছে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৩০ লাখ লাখ টাকা। এত ব্যয়বহুল একটি ট্রফি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ছিল বড় ধরনের উন্মোচনের, কিন্তু বাস্তবে টুর্নামেন্ট শুরু করতে হয়েছে সেই ট্রফি ছাড়াই।
বিসিবি সূত্রে জানা যায়, বিপিএল শুরুর আগেই একটি ট্রফি দেশে আনা হয়েছিল। তবে সেটিকে মানসম্মত মনে না করায় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল তা বাতিল করে। পরে নতুন নকশায় আরেকটি ট্রফি আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটিও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে আবার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার ট্রফি বদলের প্রক্রিয়ায় পড়ে যায় বিপিএল।
দুবাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানকে নতুন ট্রফি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডায়মন্ড খচিত এই ট্রফি বানাতে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিসিবির দাবি, এই ট্রফি হবে বিপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমী। বোর্ডের সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেনের মতে, দর্শকরা ট্রফিটি দেখলে আগের সব ট্রফির কথা ভুলে যাবেন।
ট্রফি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে আরও একটি বিষয় যুক্ত করেছে বিসিবি। বোর্ড জানিয়েছে, বিপিএলের জন্য দুটি ট্রফি বানানো হচ্ছে। একটি চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য বরাদ্দ থাকবে, অন্যটি সংরক্ষণ করা হবে বিসিবিতে। বিসিবির যুক্তি অনুযায়ী, একই সঙ্গে দুটি ট্রফি বানালে একটির তুলনায় খরচ তুলনামূলক কম পড়ে। তবে এই ব্যাখ্যা জনমনে খরচের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্নও তৈরি করেছে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই যখন স্পন্সর, উদ্বোধনী আয়োজন এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা চলছিল, তখন ট্রফির দামের বিষয়টি সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করে তোলে। মাঠে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বোর্ড না থাকা বা সীমিত পরিসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিপরীতে ট্রফির পেছনে লাখো টাকা ব্যয়ের বিষয়টি অনেকের চোখে বৈপরীত্য হিসেবেই ধরা পড়েছে।
সব বিতর্কের মধ্যেও বিপিএল শুরু হয়েছে দর্শকের আগ্রহ নিয়ে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী দিনে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজারের বেশি দর্শক। মাঠের খেলায় প্রাণ ফিরলেও প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি ডায়মন্ড খচিত ট্রফিটি কবে প্রকাশ্যে আসবে এবং সেটি প্রত্যাশার ভার বহন করতে পারবে কি না, সে প্রশ্ন আপাতত থেকেই যাচ্ছে।










Discussion about this post