বিপিএলের এবারের আসরটা যেন স্বাভাবিক কোনো টুর্নামেন্টের মতো এগোচ্ছে না। মাঠে খেলা যতটা, তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে মাঠের বাইরের সময়সীমা। কারণ, এই বিপিএলের মাঝেই চূড়ান্ত হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল।
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কাছে তাই প্রতিটি ম্যাচ এখন প্রস্তুতির পাশাপাশি বাছাইয়ের পরীক্ষা। নাজমুল হোসেন শান্ত এই পরীক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। এক বছর আগেই যিনি বাংলাদেশকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এবার তাকে খেলতে হলে আবার নতুন করে নিজের নামটা লিখতে হচ্ছে সম্ভাব্য তালিকায়।
শুরুর ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে শান্ত জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনও আলোচনার বাইরে নন। রাজশাহীর কোচিং স্টাফ মনে করছেন, শান্ত কোনো বাড়তি কিছু করতে গিয়ে নয়, নিজের স্বাভাবিক খেলাতেই এই ইনিংস খেলেছে। সমালোচনার জবাব এসেছে ব্যাটেই। কিন্তু এই বিপিএল তো মাত্র শুরু হয়েছে, আর নির্বাচকদের সামনে সময় নেই পুরো গল্প শোনার। সেখানেই তৈরি হচ্ছে বৈপরীত্য, ফর্ম দেখানোর সুযোগ থাকলেও সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে তাড়াহুড়ো করে।
বিসিবির নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও হাসিবুল হোসেন এখন সিলেটে। তাদের কথাতেই স্পষ্ট, এখানেই বিশ্বকাপের দল জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ সূত্র বলছে, আইসিসির নির্ধারিত সময়সীমা ১ জানুয়ারি। তার মানে বিপিএলের কয়েকটি ম্যাচ দেখেই নির্বাচকদের ঠিক করতে হচ্ছে, কারা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী পরে সীমিত পরিসরে বদলের সুযোগ থাকে, তবু মূল কাঠামো একবার দাঁড়িয়ে গেলে তা বদলানো সহজ নয়।
লিপু আগের বিশ্বকাপের উদাহরণ দিয়ে বোঝান, প্রয়োজন হলে শেষ মুহূর্তে এক-দুটি পরিবর্তন করা যায়। তবে সেটি ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়। নির্বাচকদের আসল চাওয়া একটাই-যারা দলে থাকবে, তারা যেন ফিট থাকে এবং ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে। শান্তর মতো ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে তাই চাপটা দ্বিগুণ, কারণ তাদের ফর্মের মূল্যায়ন হচ্ছে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে।
এই চাপের সঙ্গে যোগ হয়েছে কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ। এবারের বিপিএলে রাতের কুয়াশা ম্যাচের গতিপথ বদলে দিচ্ছে। প্রথম ম্যাচে বড় স্কোর দেখা গেলেও পরের ম্যাচগুলোতে রান কমেছে। বোলার ও ফিল্ডারদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। লিপুর মতে, এসব অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাস্তবতা। ভবিষ্যতের কথা ভেবে এমন কন্ডিশনে অনুশীলনের সুযোগ বাড়ানোর কথাও উঠে এসেছে, যাতে খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারে।










Discussion about this post