মাঠে দাঁড়ানো একজন আম্পায়ার-সাদা টুপি, সোজা ভঙ্গি, মুখে কখনো মৃদু হাসি, কখনো গম্ভীর রসিকতা। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এ চিত্র মানেই হ্যারল্ড ‘ডিকি’ বার্ড। আজ সেই চেনা মানুষ আর নেই। ৯২ বছর বয়সে জীবনের ইনিংস শেষ করলেন তিনি।
একসময় ব্যাট হাতে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বার্ড। কিন্তু হাঁটুর ইনজুরি থামিয়ে দেয় সেই স্বপ্ন। মাত্র ৯৩ ম্যাচ খেলার পর ক্যারিয়ার থেমে যায়। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। ক্রিকেট ছেড়ে চলে যাননি। আম্পায়ার হয়ে ক্রিকেটেরই এক অবিচ্ছেদ্য চরিত্রে পরিণত হন।
১৯৭৩ থেকে ১৯৯৬-এই দীর্ঘ সময়ে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল, ৬৬টি টেস্ট আর ৬৯টি ওয়ানডে পরিচালনা করেছেন। তবে কেবল ম্যাচ পরিচালনাই নয়, খেলাটিকে আনন্দে ভরিয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর বড় অবদান।
খেলোয়াড়রা তাকে যেমন সম্মান করতেন, তেমনি মজা করতেও ছাড়তেন না। ইয়ান বোথাম কিংবা অ্যালান ল্যাম্ব-তার সঙ্গে রঙ্গতামাশার কত গল্প যে ছড়িয়ে আছে ক্রিকেটকথনে! ডিকি বার্ড কখনো রাগ করতেন না, বরং মজাটাই ফিরিয়ে দিতেন আরও প্রাণখোলা হাসিতে।
ক্রিকেটে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের এমবিই (১৯৮৬) ও ওবিই (২০১২)। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় পুরস্কার ছিল খেলোয়াড়দের শ্রদ্ধা আর দর্শকদের ভালোবাসা। লর্ডসে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে যখন গার্ড অব অনার পেয়ে চোখ মুছতে মুছতে মাঠে নেমেছিলেন, তখনই যেন বোঝা গিয়েছিল-এ আম্পায়ার শুধু নিয়ম মানান ব্যক্তি নন, ক্রিকেটেরই এক আবেগ।










Discussion about this post