পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসছে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গন। ঈদুল ফিতরের আগে এই জয় যেন ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আনন্দের উপলক্ষ হয়ে এসেছে। ঘরের মাঠে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সিরিজ জয়ের স্মৃতি নিয়েই উৎসবের আমেজে থাকছে ভক্তরা। তবে সেই আনন্দ বেশিদিন ধরে রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না ক্রিকেটাররা, কারণ সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
আগামী ১৩ এপ্রিল তিন সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশে আসবে নিউজিল্যান্ড দল। সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে কিউইরা। সীমিত ওভারের এই সিরিজের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ওয়ানডে ম্যাচগুলো, কারণ সেগুলোর ফলাফল সরাসরি প্রভাব ফেলবে আইসিসি র্যাঙ্কিং ও বিশ্বকাপের পথচলায়।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে হলে র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হবে বাংলাদেশকে। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ফলে সেই লক্ষ্যপূরণের পথে কিছুটা এগিয়েছে দলটি। সিরিজ জিতে তিনটি রেটিং পয়েন্ট যোগ হয়েছে বাংলাদেশের ঝুলিতে। ফলে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল।
বাংলাদেশের এই অগ্রগতির ফলে দশ নম্বরে নেমে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের রেটিং পয়েন্ট এখন ৭৭। পাকিস্তান সিরিজের আগে দুই দলের ব্যবধান ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। এখন সেই ব্যবধান বেড়ে হয়েছে দুই। এর আগে গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়েও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়নি বাংলাদেশের, কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সাফল্য এনে দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন।
আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজ বাংলাদেশের জন্য আরও বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। কারণ আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে কিউইদের অবস্থান দ্বিতীয়। এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো ফল করতে পারলে র্যাঙ্কিং পয়েন্ট বাড়ার সম্ভাবনাও থাকবে বেশি।
তবে নিউজিল্যান্ডের পুরো শক্তির দল বাংলাদেশ সফরে নাও দেখা যেতে পারে। ওই সময় ভারতের আইপিএল চলবে, যেখানে ব্যস্ত থাকবেন কিউইদের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, রাচিন রবিন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন, কাইল জেমিসন, জেকব ডাফি ও লকি ফার্গুসনের মতো ক্রিকেটাররা আইপিএলে অংশ নেওয়ার কারণে সফরে নাও থাকতে পারেন।
এ ছাড়া একই সময়ে চলবে পাকিস্তান সুপার লিগ। সেখানে খেলবেন মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেল। ফলে তাদের বাংলাদেশ সফরে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও কম। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য কিছুটা সুবিধা তৈরি করতে পারে।
পাকিস্তান সিরিজের আগে থেকেই বাংলাদেশ দল ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানিয়েছেন, প্রতিটি ম্যাচ ও সিরিজ থেকেই পয়েন্ট সংগ্রহ করা এখন দলের প্রধান লক্ষ্য। তার মতে, বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বুঝে এগোতে হবে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ১৭, ২০ ও ২৩ এপ্রিল। এরপর ২৭ ও ২৯ এপ্রিল এবং ২ মে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। ভেন্যু এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও জানা গেছে, ওয়ানডে ম্যাচগুলো মিরপুরে এবং টি–টোয়েন্টি ম্যাচগুলো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চট্টগ্রামে।










Discussion about this post