পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে আনন্দ থাকলেও সেই আনন্দের মধ্যেই ব্যক্তিগত হতাশা নিয়ে সময় কাটাতে হয়েছে ওপেনার সৌম্য সরকারকে। স্কোয়াডে থাকলেও তিন ম্যাচের একটিতেও একাদশে জায়গা হয়নি তার। কখনো বেঞ্চে বসে, কখনো বা বাউন্ডারি লাইনে পানি টেনে কাটাতে হয়েছে পুরো সিরিজ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশার ইঙ্গিতও দিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
সিরিজ শেষে কেন তাকে একাদশে রাখা হয়নি, সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার মতে, দলের পরিকল্পনা এবং ব্যাটারদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার নীতির কারণেই সৌম্যকে মাঠে নামানো হয়নি।
মিরাজ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সৌম্য খুব ভালো ছন্দে ছিলেন না। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তার পারফরম্যান্স খুব ধারাবাহিক ছিল না বলে মনে করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও আগের একটি সিরিজে ভালো খেলেছিলেন তিনি, তারপরও পাকিস্তান সিরিজে ওপেনিংয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা নেয় দল।
সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পুরো সিরিজে ওপেনিংয়ে সুযোগ দেওয়া হয় তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানকে। দলের ভাবনা ছিল, এই দুজনকে ধারাবাহিকভাবে খেলিয়ে দেখা। তাই মাঝপথে পরিবর্তন এনে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট।
প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে সফল না হলেও সাইফকে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও রাখা হয় একাদশে। মিরাজের মতে, তখন যদি সাইফকে বাদ দিয়ে সৌম্যকে খেলানো হতো, তাহলে দুটি দিক থেকেই সমস্যা তৈরি হতে পারত। একদিকে সাইফের আত্মবিশ্বাসে আঘাত লাগত, অন্যদিকে সৌম্য যদি ভালো করতে না পারতেন, তাহলে তার ওপরও চাপ তৈরি হতো।
বাংলাদেশ দলের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাটার সুযোগ পেলে তাকে একাধিক ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে সে নিজের সামর্থ্য দেখানোর সময় পায়। মিরাজ বলেন, এক বা দুই ম্যাচ দেখে কোনো ব্যাটারকে বিচার করা ঠিক নয়। বরং কয়েকটি ম্যাচ সুযোগ দিলে সে নিজেই বুঝতে পারে তার অবস্থান কোথায়।
তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার একটি কারণ আছে। নিজের সর্বশেষ ওয়ানডেতে ম্যাচসেরা হয়ে ৯১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সৌম্য। এরপরও তিনি একাদশের বাইরে থেকে যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে দলে জায়গা হয়নি, আর পাকিস্তানের বিপক্ষে স্কোয়াডে থেকেও খেলা হয়নি কোনো ম্যাচ।
এই পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমে সৌম্য একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তাকে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তার স্ত্রীও একটি পোস্টে লিখেছেন, পৃথিবী সব সময় পরিশ্রম ও অর্জনের স্বীকৃতি দেয় না। সেই পোস্ট থেকেই বোঝা যায়, পুরো বিষয়টি তাদের জন্য কতটা হতাশার।










Discussion about this post