বাংলাদেশ ক্রিকেটে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন, পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ এবং কোচদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর করতে চালু হতে যাচ্ছে একটি বিশেষ অ্যানালিটিকস ল্যাবরেটরি।
তামিম ইকবাল বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলোয়াড় উন্নয়নে নেওয়া এটি আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। সোমবার বিসিবির সহ-সভাপতি ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা এই প্রকল্পের ঘোষণা দেন।
বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ রব্বানী সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পটির বিস্তারিত তুলে ধরেন। জানা গেছে, অ্যানালিটিকস ল্যাবরেটরির কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পারফরম্যান্স বিশ্লেষক সন্দীপ কুমার রমনকে। শুরুতে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ইনডোর সুবিধায় স্থাপন করা হবে এই ল্যাব। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ক্রিকেট কেন্দ্রে এর কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খেলোয়াড়দের একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও ডাটাবেজ তৈরি করা। অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় দল পর্যন্ত ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এখানে। এর মাধ্যমে কোচ, খেলোয়াড় এবং বিসিবি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজনীয় সময়ে পারফরম্যান্স সম্পর্কিত তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন।
ফাহিম সিনহা জানিয়েছেন, এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনেক আগে থেকেই অনুভব করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘এটার বিষয়ে আপনারা আজ থেকে আরও দেড় বছর আগে শান্ত যখন ওয়ানডে অধিনায়ক ছিল, শান্তর সাথে এটা নিয়ে আমার অনেক আলোচনা হয়েছিল, মানে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। কিছু খেলোয়াড়দের সাথে কথা হয়েছিল; তাদের মতামত ছিল এটা খুবই জরুরি, এটা আরও আগে হাওয়া উচিত ছিল।’
তিনি জানান, শুধু খেলোয়াড় নয়, কোচদের প্রয়োজনের বিষয়টিও মাথায় রেখেই এই ল্যাবের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন কোচের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফাহিম সিনহা বলেন, ‘আমার সালাউদ্দিন ভাইসহ বিভিন্ন কোচ, যার মধ্যে হান্নান ভাইও আছেন যারা আমাদের প্যানেলে আছেন জিডির অধীনে, অনেকের সাথে আলোচনা করেই আমাদের এই জিনিসটা তৈরি করা। তো এটা দক্ষতা উন্নয়ন বলেন, বা কোচদের প্রয়োজন অনুযায়ী এখানে এসে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করতে পারবেন।’
নতুন এই ব্যবস্থায় কোচরা শুধু পুরোনো ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং খেলোয়াড়ের বর্তমান অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন।
কোচদের সুবিধার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ফাহিম বলেন, ‘আপনার একটা কোচ, একটা খেলোয়াড়কে নিয়ে নির্দিষ্ট ম্যাচে যে ফুটেজগুলো পাওয়া যায় বা আগে একটা নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের যতগুলো ফুটেজ আছে, তার চেয়ে ভালো হচ্ছে আপনার সরাসরি ইনডোরে এসে ফিজিক্যালি বর্তমানে তার অবস্থা কেমন, সেটা দেখা বা যাচাই-বাছাই করা। তো ওই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোচরা কাজ করতে পছন্দ করবে।’
বিসিবির এই উদ্যোগে শুধু জাতীয় দলের খেলোয়াড় নয়, ভবিষ্যতের ক্রিকেটার তৈরির প্রক্রিয়াতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিভা চিহ্নিত করা এবং উন্নতির জায়গাগুলো দ্রুত বের করা সম্ভব হবে।










Discussion about this post