বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পরই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন তামিম ইকবাল। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ভেঙে যাওয়ার পর গঠিত অ্যাডহক কমিটির দ্বিতীয় সভাতেই উঠে এসেছে ঘরোয়া ক্রিকেটের নানা অসঙ্গতি, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় নারী ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক।
এই বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় লুকাননি তামিম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি বলেন, ‘কয়েকটা জিনিস দেখে আমি খুবই অবাক হয়েছি। আমাদের নারী ক্রিকেটার যারা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন, তাদের ম্যাচ ফি সম্পর্কে আপনাদের ধারণা আছে? আমি জানি না আপনারা জানেন কি না। এটা একটা সময় ১ হাজার টাকা ছিল। তারপর এটাকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় এটা কোনোভাবেই ঠিক না।’
এই অবস্থার পরিবর্তনে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন বোর্ড। ম্যাচ ফি বাড়িয়ে নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এটিকে চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখছেন না তামিম নিজেই, ‘আমরা যেটা অনুমোদন দিয়েছি আমি বলব না, এটা খুব ভালো। কিন্তু এটা তুলনামূলক ভালো। কারণ সবকিছু বাড়ানোর একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এখন থেকে তারা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১০ হাজার টাকা, ওয়ানডের জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং লঙ্গার ভার্সনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন।’
শুধু ম্যাচ ফি নয়, নারী ক্রিকেটারদের মাসিক বেতনও বাড়ানো হয়েছে, যা তাদের পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরুষদের লম্বা সংস্করণের ম্যাচ ফিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সিরিজ আয়োজনেও বাস্তবতার ছাপ পড়েছে। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড, যেখানে দিনের বেলায় ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় পরিবর্তন, ওয়ানডে ম্যাচে ১১টা অথবা সাড়ে ১১টা, টি-টোয়েন্টি বেলা ২টা অথবা আড়াইটায় হতে পারে।’
প্রশাসনিক কাঠামোতেও এসেছে ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাউকে এককভাবে দায়িত্ব না দিয়ে যৌথভাবে পরিচালনার পথে হাঁটছে বোর্ড। তামিম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সবাই মিলে ক্রিকেট অপারেশন্সে এখন কাউকে নিয়োগ দিব না। যদি কোনো প্রশ্ন আসে ক্রিকেট অপারেশন্স থেকে, তখন সেটা আমরা বসে বোর্ডে সিদ্ধান্ত নেব।’
একইসঙ্গে বোর্ডের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে কাজের গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টুর্নামেন্ট কমিটিতে আছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আম্পায়ার্স কমিটির দায়িত্বে আতহার আলী খান এবং অন্যান্য বিভাগেও নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।










Discussion about this post