ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে ক্রিকেট অঙ্গনেও। বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ড নতুন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ইতোমধ্যে পাকিস্তান সুপার লিগের ভেন্যু কমানো এবং দর্শকবিহীন গ্যালারিতে ম্যাচ আয়োজনের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার আসন্ন সিরিজকে ঘিরে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৭ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ঢাকায় ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। আগে পরিকল্পনা ছিল ওয়ানডেগুলো দিবা-রাত্রীর হবে এবং টি-টোয়েন্টির কিছু ম্যাচ সন্ধ্যায় শুরু হবে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরো সিরিজই দিনের বেলায় আয়োজন করা হবে, যাতে ফ্লাডলাইটের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমানো যায়।
বিসিবির এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান। জাতীয় দায়িত্বের অংশ হিসেবে ক্রিকেট বোর্ডও এই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে। এ বিষয়ে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ সরকার উৎসাহিত করেছে যে আমরা যতটুকু সম্ভব বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারি। জাতির অংশ হিসেবে আমরা সবাই মিলে এদিক থেকে যতটুক সহায়তা করতে পারি। এই চিন্তা মাথায় রেখে নিউজিল্যান্ড সিরিজের ম্যাচের সময় আমরা পরিবর্তন করেছি। আমরা যতটুকু পারব সর্বনিম্ন সময় লাইটের আলোয় খেলার চেষ্টা করব।’
যদিও ম্যাচের নির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সম্ভাব্য সূচি সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন তিনি।
তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমি সঠিক সময়টা বলতে পারছি না। কিন্তু একটা ধারণা দিতে পারি। যেমন ওয়ানডে ম্যাচ হয়তো ১১টা বা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হতে পারে। টি-টোয়েন্টি হয়তো ২টা বা ২টা ৩০ মিনিট থেকে হতে পারে। কারণ বিদ্যুৎ নিয়ে যখন সরকার সবাইকে উৎসাহিত করছে যে এটা করতে (সাশ্রয় করতে), তাই ক্রিকেট বোর্ড, ক্রিকেটার এবং আমাদের সবাইকে ভূমিকা পালন করা উচিত। আমরা সেটাই করছি। আপনারা ম্যাচ শুরুর সঠিক সময় জেনে যাবেন। আমি আপনাদের একটা ধারণা দিলাম-যদি লাইটের আলোতে ম্যাচ খেলতেও হয়, বিদ্যুৎ বাঁচাতে যতটা কম সম্ভব ব্যবহার করা যায়। এর চেয়ে বেশি কিছু না।’



