বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজ শেষে উঠে এসেছে একগুচ্ছ চমকপ্রদ পরিসংখ্যান। যেখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের আধিপত্য আর পাকিস্তানের ধারাবাহিক ব্যর্থতা। দুই ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে শুধু সিরিজ জয়ই নয়, একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ডও গড়েছে টাইগাররা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এখন টেস্টে টানা চারটি ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর এবার ঘরের মাঠেও একই ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা। এর ফলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দল হিসেবে পাকিস্তানকে টানা দুই বা তার বেশি ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব দেখাল। এর আগে ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া চারবার টানা সিরিজে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেছিল।
অন্যদিকে, পাকিস্তান প্রথম দল হিসেবে বাংলাদেশের কাছে টানা দুই টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পড়ল। একই সঙ্গে ২০১৩-১৪ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচ জয়ের পর এবারই প্রথম পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চারটি টেস্ট জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ।
ঘরের মাঠেও নতুন ইতিহাস লিখেছে টাইগাররা। এই প্রথম টেস্ট ক্রিকেটে টানা চার ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। এর আগে গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই জয় ছিল তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। শুধু তাই নয়, এখন ঘরের মাঠে টানা পাঁচটি টেস্ট জিতে নিজেদের ইতিহাসে দীর্ঘতম জয়ধারাও গড়েছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের দুর্দশা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। টেস্ট ক্রিকেটে এখন তারা টানা সাতটি অ্যাওয়ে ম্যাচে হেরেছে, যা তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো দীর্ঘতম পরাজয়ধারা। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সময়েও একই সংখ্যক ম্যাচে হেরেছিল দলটি। ২০২৪ সালের শুরু থেকে বিদেশের মাটিতে কোনো টেস্ট জয় পায়নি পাকিস্তান। তাদের সর্বশেষ অ্যাওয়ে টেস্ট জয় ছিল ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
সিরিজে পাকিস্তানের কৌশলগত সিদ্ধান্তও ব্যর্থতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই ম্যাচেই টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় সফরকারীরা, কিন্তু দুটিতেই হেরে যায়। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দুই ম্যাচের সিরিজে প্রথমে বোলিং করে উভয় ম্যাচ হারের অভিজ্ঞতা হলো পাকিস্তানের। সামগ্রিকভাবে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি মাত্র ষষ্ঠ ঘটনা।








Discussion about this post