মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের আজকের দিনটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ একটি যোগসূত্র হয়ে রইল। মুশফিকুর রহিম দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে পা রাখলেন শততম টেস্টে-এক এমন মাইলফলক যা অর্জনের জন্য প্রয়োজন সময়, ধৈর্য, নিবেদন এবং দক্ষতার অনবদ্য সমন্বয়। আর এই অসাধারণ অর্জনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছেন বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি রিকি পন্টিং। অস্ট্রেলিয়ার এই দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মুশফিকের শততম টেস্টকে বললেন ‘অবিশ্বাস্য’ ও ‘অসাধারণ’।
আইসিসির মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় পন্টিং স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি একজন খেলোয়াড়কে মূল্যায়ন করেন দীর্ঘস্থায়িত্ব দিয়ে, কে কত দিন ধরে নিজের মান ধরে রাখতে পারে, বড় মঞ্চে নিয়মিত পারফর্ম করতে পারে।
তার ভাষায়, বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রতিযোগিতা বজায় রাখা কখনোই সহজ কাজ নয়। সেই কঠিন পথ পেরিয়েই মুশফিক পৌঁছেছেন এই শততম টেস্টে, যা পন্টিংয়ের চোখে তাকে প্রকৃত উচ্চমানের ক্রিকেটারের আসনে তুলে দেয়। পন্টিং বলেছেন, ‘আপনি যখন ৭০, ৮০, ৯০ টেস্ট খেলেন, তখন আপনি নিজের উন্নতির সুযোগ পান, আরো ভালো কিছু করার। এটা কখনো সহজ নয়। এটা অবিস্মরণীয় অর্জন। আমি মুশফিকুরকে তারা শততম টেস্টের জন্য অভিনন্দন জানাই। আশা করি সে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ম্যাচ খেলবে।’
পন্টিং বলেন, একজন ক্রিকেটার যখন ৭০, ৮০ বা ৯০ টেস্ট খেলার মতো ধারাবাহিকতায় পৌঁছে যায়, তখনই সে নিজের সীমা অতিক্রম করতে শেখে। প্রতিদিন নিজেকে আরও ভালো করার যে চাপ, সেই চাপেই তৈরি হয় শ্রেষ্ঠত্বের বরকত। তাই মুশফিকের শততম টেস্ট পন্টিংয়ের কাছে শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মবিশ্বাসের শক্তিশালী প্রতীক। তার শুভকামনা-মুশফিক যেন এই ম্যাচটিকে ক্যারিয়ারের স্মরণীয় ইনিংস দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে পারে।
মিরপুরে আজকের আয়োজনে মুশফিককে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মান। সাবেক নেতারা, সতীর্থরা তাঁকে স্মারক হাতে তুলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মাঠে নেমেও মুশফিক দেখিয়েছেন তাঁর অভিজ্ঞতার দৃঢ়তা, ইনিংসে অর্ধশতক তুলে ইতোমধ্যে শুরু করেছেন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পথচলা। সামনে সুযোগ আছে এই ঐতিহাসিক ম্যাচটিকে সেঞ্চুরিতে রাঙানোর।
টেস্ট ইতিহাসে বিশ্বের ৮৪তম ক্রিকেটার হিসেবে এবং বাংলাদেশের প্রথম প্রতিনিধি হয়ে শততম ম্যাচে মাঠে নামা মুশফিক এখন দেশের ক্রিকেটে এক অনন্য প্রতীক। তার আগে এমন দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সুযোগ পাননি তামিম বা সাকিব। ভবিষ্যতে মুমিনুল, তাইজুল, মিরাজ কিংবা লিটনদের সামনে সুযোগ থাকলেও মুশফিকের এই অর্জন তাদের জন্য পথপ্রদর্শকের মতো রয়ে যাবে।










Discussion about this post