বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সময়টা শেষ পর্যন্ত একটি ব্যর্থ প্রশাসনিক অধ্যায় হিসেবেই বেশি আলোচিত হয়ে থাকবে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তার খুব কমই পূরণ করতে পেরেছেন তিনি-বরং তার নেতৃত্বে বোর্ড ক্রমশ জড়িয়ে পড়ে অস্থিরতা, বিতর্ক ও কার্যত ভেঙে পড়ার পরিস্থিতিতে।
শুরুতেই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ ভিত্তি। যে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সভাপতি হন, সেটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন এবং বিতর্কিত ছিল। ফলে তার নেতৃত্বের বৈধতা নিয়েই শুরু থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়। একটি দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে শক্তিশালী প্রশাসন গড়া কঠিন-বুলবুলের সময়টা যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা ছিল বোর্ডের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, আর সেখানেই সবচেয়ে বেশি ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। একে একে পরিচালকদের পদত্যাগ-ইশতিয়াক সাদেক, আমজাদ হোসেন, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল এবং ফায়াজুর রহমান মিতু-শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং নেতৃত্বের ওপর আস্থাহীনতার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হয়েছে। ২৫ সদস্যের বোর্ডে ধারাবাহিক এই ভাঙন একটি অকার্যকর প্রশাসনের চিত্র তুলে ধরে।
বুলবুলের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় সমালোচনা ছিল সিদ্ধান্তহীনতা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দৃঢ় ও কার্যকর সিদ্ধান্তের বদলে তাকে অনেক সময় নীরব বা নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে-এমন অভিযোগ ছিল বোর্ড সংশ্লিষ্ট অনেকের। এর প্রভাব পড়ে মাঠের ক্রিকেটেও। ঘরোয়া ক্রিকেটের স্থবিরতা, পরিকল্পনার অভাব এবং কার্যক্রমে ধীরগতি-সবকিছু মিলিয়ে ক্রিকেট পরিচালনায় তার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।
অন্যদিকে, উন্নয়নের যেসব উদ্যোগের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই বাস্তব রূপ পায়নি। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম নিয়ে ঘোষিত ‘মাস্টারপ্ল্যান’ও শেষ পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ফলে তার প্রশাসনকে অনেকেই ‘কাগুজে পরিকল্পনা নির্ভর’ বলেও সমালোচনা করেছেন।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন ২০২৫ সালের অক্টোবরের নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি তদন্তে নেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এই তদন্তই শেষ পর্যন্ত তার নেতৃত্বের পতনের পথ তৈরি করে। ই-ভোটিং নিয়ে কারচুপি, বুলবুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার। আর সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে ভেঙে দেওয়া হয় বুলবুলের বোর্ড।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এনএসসি বোর্ড ভেঙে দেয় এবং একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে আনা হয় তামিম ইকবালকে।
সবচেয়ে সমালোচিত দিকগুলোর একটি ছিল-সংকট মোকাবিলায় তার ব্যর্থতা। ক্রমবর্ধমান চাপ, বোর্ডের ভেতরের বিভাজন এবং বহিরাগত সমালোচনার মুখে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, যা নেতৃত্বের দুর্বলতারই প্রতিফলন।










Discussion about this post