বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনে পরিবর্তনের ঘটনাটি অনেক প্রশ্ন একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি নির্বাচিত বোর্ড, যার নিজস্ব গঠনতন্ত্র রয়েছে, সেটিকে ভেঙে দিতে পারে কে? আর কী ভিত্তিতে? জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে, তখন সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা জরুরি।
ঘটনার শুরুতে ছিল অভিযোগ, এরপর তদন্ত, আর শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ। এই ধারাবাহিকতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮’-এর ধারা ২১। আইনটির এই ধারাটি এনএসসিকে এমন একটি ক্ষমতা দেয়, যা প্রয়োজনে কোনো ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটিকেই অকার্যকর ঘোষণা করতে পারে।
এই আইনের ভাষা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বলা হয়েছে, অন্য কোনো আইন বা গঠনতন্ত্রে যা-ই থাকুক না কেন, যদি কোনো সংস্থা তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করে বা সংস্থার স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে এনএসসি সেই কমিটি ভেঙে দিতে পারবে। অর্থাৎ, এটি একটি ‘ওভাররাইডিং’ ক্ষমতা-যা অন্যান্য বিধানকে অতিক্রম করতে সক্ষম।
এই ব্যাখ্যাই বিসিবির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে। যদিও বোর্ডের নিজস্ব সংবিধানে অ্যাডহক কমিটির উল্লেখ নেই এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোও এমন কাঠামোর অধীনে হয়নি, তবু রাষ্ট্রীয় আইনের এই ধারা এনএসসিকে সেই পথ খুলে দিয়েছে।
তবে কেবল আইনের অস্তিত্বই যথেষ্ট নয়-তার প্রয়োগের জন্য প্রয়োজন যুক্তি। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলিই সেই যুক্তির ভিত্তি তৈরি করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ বলা হয়েছে। কাউন্সিলর মনোনয়নে প্রভাব খাটানো, নির্দিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে চাপ সৃষ্টি এবং ই-ভোটিংয়ের গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। এতে বোর্ডের গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি।
এর পাশাপাশি গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়ে সভাপতির একক সিদ্ধান্তকে ক্ষমতার সীমা অতিক্রম হিসেবে দেখা হয়েছে। এনএসসির মতে, এটি শুধু নিয়ম ভঙ্গই নয়, বরং নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।
এই দুই দিক একত্রে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে এনএসসি মনে করে বোর্ড ‘যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে না’। আর এই ব্যাখ্যার ওপর দাঁড়িয়েই তারা ধারা ২১ প্রয়োগ করে কমিটি ভেঙে দেয়।
এরপরই আসে পরবর্তী ধাপ-অ্যাডহক কমিটি। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে। লক্ষ্য, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং পরবর্তী কাঠামোর পথ তৈরি করা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সাধারণত সরকারি হস্তক্ষেপকে সীমিত রাখতে চায়। তবে এনএসসি পুরো ব্যাপারটি আইসিসিকে জানিয়েই করেছে।










Discussion about this post