লাহোরের গ্যালারিতে তখন আলো ঝলমলে রাত। স্কোরবোর্ডে পাকিস্তানের জয়ের ছায়া স্পষ্ট, তবুও এক কোণে অপেক্ষা জমে ছিল-ইতিহাসের। বাবর আজম জানতেন, এই ম্যাচ শুধু দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর নয়, এটি তার নিজের গল্পের এক নতুন অধ্যায়।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দুই বল খেলে শূন্য রানে ফেরার পর কেউ ভাবেনি, পরের ম্যাচে তিনিই ইতিহাস লিখবেন। ১০ মাসের অপেক্ষা, এক ম্যাচের হতাশা-সব মিলিয়ে যেন নিঃশব্দ এক প্রতিশোধের প্রস্তুতি। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে নামতেই শুরু হলো ধীর অথচ দৃঢ় এক ইনিংস। তাড়াহুড়োর কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ জয়ের পথ তখন সোজা। কিন্তু তাঁর ব্যাটের লক্ষ্য ছিল একটু ভিন্ন-রোহিত শর্মাকে ছাড়িয়ে যাওয়া।
ইনিংসের সপ্তম ওভারে এক কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারি, তারপর ধীরে ধীরে এগোনো। দ্বাদশ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার ডনোভান ফেরেইরার বলে লং অফে সিঙ্গেল নিতে গিয়েই ইতিহাসটা হলো। এক রান, আর তাতেই বাবরের নাম উঠে গেল আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টির সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের আসনে। রোহিতের ৪২৩১ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে ৪২৩৪ রানে শীর্ষে পাকিস্তানের এই ব্যাটার।
সেই মুহূর্তে বাবরের মুখে ছিল না উচ্ছ্বাস, কেবল এক হালকা হাসি। তিনি জানতেন, বড় ইনিংস নয়, ছোট্ট এই ইনিংসই চিহ্নিত করবে তার ক্যারিয়ারের এক স্মরণীয় সন্ধ্যা। ১৮ বলে ১১ রানের ইনিংস-কিন্তু তার মূল্য সময়ের চেয়েও ভারী।
২০১৬ সালে অভিষেকের পর ১৩০ ম্যাচে ৩৯.৫৭ গড়ে ৩টি সেঞ্চুরি ও ৩৬টি হাফসেঞ্চুরি করেছেন বাবর। রোহিত ও বিরাটের পর যুগটা এখন তাঁর হাতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই শান্ত সন্ধ্যায় ক্রিকেট বিশ্ব দেখল এক ব্যাটারের নীরব বিপ্লব-যেখানে শোরগোল নেই, আছে কেবল নিখুঁত পরিপূর্ণতা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেরা ৫
ব্যাটার রান
বাবর আজম ৪২৩৪
রোহিত শর্মা ৪২৩১
বিরাট কোহলি ৪১৮৮
জস বাটলার ৩৮৬৯
পল স্টার্লিং ৩৭১০










Discussion about this post