আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জয়রথ থামছেই না বাংলাদেশের। যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার পাপুয়া নিউগিনিকেও হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাঘিনীরা। কীর্তিপুরের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে ৩০ রানের এই জয় বাংলাদেশ নারী দলকে পৌঁছে দিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।
টসে জিতে পাপুয়া নিউগিনি আগে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশকে। ওপেনিংয়ে দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস আগ্রাসী ভঙ্গিতে ইনিংস শুরু করেন। দু’জনের ব্যাটে দ্রুতই এগোতে থাকে স্কোরবোর্ড। ৪৯ রানের জুটিতে ভর করে ভালো ভিত পায় বাংলাদেশ। ১১ বলে ১৭ রান করে ফেরদৌস ফিরে গেলে জুটি ভাঙে, তবে দিলারা ইনিংস ধরে রাখেন। তিনি ২৯ বলে ৩৫ রান করে আউট হন দলের ৬৭ রানে।
মাঝের ওভারে কিছুটা গতি হারায় বাংলাদেশের ইনিংস। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি দ্রুত বিদায় নিলে চাপ বাড়ে। শারমিন আক্তার সুপ্তা তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত থাকেন। ৩৪ বলে ২৮ রান করে ইনিংস এগিয়ে নিলেও বড় ঝড় তোলার সুযোগ পাননি তিনি।
শেষ দিকে সোবহানা মোস্তারী ও স্বর্ণা আক্তার পুরো চিত্রটাই বদলে দেন। দু’জনের ব্যাটে হঠাৎ করেই রানের গতি বেড়ে যায়। বিশেষ করে স্বর্ণা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ১৪ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে তিনি বাংলাদেশের সংগ্রহকে দেড়শ ছাড়িয়ে নিয়ে যান। মোস্তারীও ছিলেন কার্যকর, ২৪ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ ২৮ বলে ৬৭ রান তুলে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬৮ রান।
লক্ষ্য তাড়ায় কনিও ওলালা ও হোলান দরিগার ভালো শুরু এনে দেন পাপুয়া নিউগিনিকে। তবে রিতু মনি ও রাবেয়া খানের আঘাতে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। অধিনায়ক ব্রেন্ডা টাউ ও সিবোনা জিমি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। দু’জন মিলে তৃতীয় উইকেটে ৫৬ বলে ৬৪ রান যোগ করেন। ৩২ বলে ৩৫ রান করা টাউকে ফেরান সোবহানা মোস্তারী, আর সেখান থেকেই ছন্দ হারায় পাপুয়া নিউগিনি।
পরবর্তী ওভারগুলোতে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। সিবোনা জিমিকে ফেরান ফাহিমা খাতুন, পাউকে সিয়ানা রান আউটে কাটা পড়েন। শেষ দিকে নাওয়ানি ভার ছাড়া কেউই প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। তিনি ১৭ বলে ১৫ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ১৩৮ রানেই থেমে যায় পাপুয়া নিউগিনির ইনিংস।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে ছিল সমান ছন্দ। সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, সোবহানা মোস্তারী ও স্বর্ণা আক্তার একটি করে উইকেট তুলে নেন। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ নারী দল।










Discussion about this post